টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বাদশা মিয়া (৫৯) মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন (ইন্না নিল্লাহে-----রাজিউন)। সোমবার বিকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে । গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে এবং পরে সন্ধ্যায় ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে এগারটার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি রাজধানী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত বাদশা মিয়া ছিলেন ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান এবং ধনাঢ্য জীবনের অধিকারী। তার পিতার নাম হাজী মোঃ ওয়াজ উদ্দিন মিয়া। বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ৩ নং ফতেপুর ইউনিয়নের কুরনি গ্রামে। বাদশা মিয়া পারিবারিক ভাবেই ছিলেন আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। তিনি টাঙ্গাইল জেলা জজকোর্ট ও হাইকোর্টের অতিরিক্ত পিপি ছিলেন। এ ছাড়া মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পর পর কয়েকবার সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
নিহতের বড় ছেলে এস এম বিদ্যুত্ জানান, সোমবার টাঙ্গাইল জজকোর্ট থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষ করে নিজের প্রাইভেটকার নিয়ে বিকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে মির্জাপুরের বাসায় ফিরছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক তার প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দিলে কারটি দুমড়ে মুচড়ে বাদশা মিয়ার মুখ এবং পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে যায়।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় প্রথমে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এবং পরে তার গ্রামের বাড়ি কুরনি স্কুল মাঠে বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একাব্বর হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মোঃ আনিছুর রহমান মিঞা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মীর শরীফ মাহমুদসহ হাজার হাজার মানুষ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি তিন পুত্র ও স্ত্রী মাসুমা বেগমকে রেখে গেছেন।
