বাঁধ ভেঙে হাওরে ঢুকছে পানি

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ২২:৪৯

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সুনামগঞ্জে গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে। শনিবার রাতে বাঁধ উপচে পানি ঢুকলেও রবিবার সকাল থেকে বাঁধ ভেঙেই পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক।

জানা গেছে, শনিবার রাত দেড়টার দিকে জামালগঞ্জ উপজেলার বেইলি ইউনিয়নের হালির হাওর ও শনির হাওরে বাঁধ উপচে পানি ঢুকলেও সকাল থেকে বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকা শুরু হয়। বেশির ভাগ কৃষকই বলছেন, ওই দুই হাওরে এখনো তাদের ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ফসল রয়ে গেছে। একইভাবে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর, শনির হাওর, বিশ্বম্ভরপুরের খরচার হাওর এবং ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরেও বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বেইলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার জানান, হালির হাওরে ৩৫ ভাগ ফসল কাটা বাকি রয়েছে। আর আগে যে ধান কাটা হয়েছে সেই ধানও হাওরের খলাতেই রয়ে গেছে। তাই বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় ফসল হারানোর আশঙ্কায় আছেন বেশির ভাগ কৃষক। তিনি অভিযোগ করেন, সামান্য পানির চাপেই বাঁধ ভেঙে গেছে।

বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢোকার কথা স্বীকার করে সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন শেষে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূঁইয়া জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে।

এ দিকে, কৃষি অফিস ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলার সব কটি হাওরের ৯০ থেকে ৯৩ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। কিছু কিছু হাওরে সামান্য ধান এখনো  রয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও জমির মালিক ধান কাটার শ্রমিক সংকটের দোহাই দিয়ে ধান জমিতেই রেখে দিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, শনিবার পর্যন্ত হাওর এলাকায় মোট এক লাখ ৭২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে এক লাখ ৬১ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। হালির হাওর ও শনির হাওরের ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছিল। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বশির আমদ সরকার জানান, এ পর্যন্ত আমাদের হাওরের ৯৪% ধান কাটা হয়েছে, বাকি ৬% ধান নিরাপদে আছে। আমাদের কিছু কিছু বাঁধ উপচে পানি যাচ্ছে। তবে আশা করছি, হাওরে পানি ঢুকলেও ধানের কোনো ক্ষতি হবে না।