মাকে বাবা কীভাবে হত্যা করলো জানালো শিশু অনিম

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ০০:১২

 ‘রনি ভাইয়া ও মীমের আম্মু আন্টি মাকে জোর করে ধরে রাখে আর বটি দিয়ে বাবা মাকে জবাই করে। পরে আমাকে ধমকে চুপ থাকতে বলে বাবা।’ এভাবেই মা জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি হত্যার ঘটনা বর্ণনা করলো তার ৭ বছরের শিশু অনিম। সে ওই নৃশংস ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। গতকাল রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় অনিম। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন তার নানা মো. খোকন এবং নানী নূর আক্তার। তারা নগরীর ১৫৩ নম্বর খানপুর মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার সুরিটোলার একটি ফ্ল্যাটে যখন সেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে সে সময় অনিমের বয়স ছিল চার বছর।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা নূর আক্তার দাবি করেন, তার মেয়ের হত্যাকারি আজগর আলী জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে প্রার্থনা করলেও তা না মঞ্জুর করে দেন আদালত। কিন্তু আজগর আলী কৌশল অবলম্বন করে নিম্ন আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসে। বর্তমানে আমরা আমাদের নাতি অনিমের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে নূর আক্তার দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। সেখানে তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করে তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মিকে বিএ অনার্সে ভর্তি করান। এরমধ্যে ঢাকার সুরিটোলা এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে আজগর আলীর সঙ্গে উর্মির বিয়ে দেওয়া হয়। তাদের সন্তান অনিম বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বাতিলকৃত জামিন আদেশ থাকা সত্ত্বেও এবং হাইকোর্ট বিভাগে রুল পেন্ডিং থাকার পরও মহানগর দায়রা জজ আদালত আমার মেয়ে হত্যার মূল আসামি আজগর আলীকে কীভাবে জামিন দিল?

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় একই বছর ৬ নভেম্বর ঢাকার বংশাল থানায় মেয়ের জামাই আজগর আলী এবং ভাগিনা রনির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিন চারজনকে আসামি করে মামলা করেন নিহত উর্মির পিতা মো. খোকন।