চট্টগ্রাম বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের বিভিন্ন বন বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সামাজিক বনায়নের বাগানের গাছ ব্যাপকভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অংশীদারিত্বের এসব বাগানে অংশীদাররাই গাছ কেটে সাবাড় করছে। সংশ্লিষ্ট বন বিভাগীয় কর্মীদের যোগসাজশে অবাধে গাছ কেটে বাগান উজাড়করা হচ্ছে। বন বিভাগের পোমরা বন বিটের আওতাধীন জিয়ানগর এলাকায় সামাজিক বাগানের চারাগাছ কর্তন চলছে গত কয়েকদিন ধরে। গত ২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় সৃজিত বাগানে গামার, আকাশমনি, মেহগনি, সেগুন চারা বেড়ে বৃক্ষসম্পদে পরিণত হচ্ছিল। কিন্তু অংশীদারের লোভের শিকারে পরিপক্ব হয়ে ওঠার আগেই সামাজিক বনায়নের চারাগাছ ইটভাটার বলি হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, বাগানের অংশীদার জনৈক আলী আহমদ করাতি শ্রমিক লাগিয়ে প্রকাশ্যে বাগানের গাছ কেটে টুকরো করে চাঁদের গাড়িতে পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ৩/৪ দিনে এখানে প্রায় এক হেক্টর বাগানের দেড়হাজার চারাগাছ কাটা হয়েছে। কর্তিত গাছের অধিকাংশ ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের কয়েটি ইটভাটায় পাচার করা হয়েছে। অবশিষ্ট এবং নতুনভাবে অবাধে কর্তন ও গাছ পাচারের প্রক্রিয়া চলছে বাগানে। চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কের পাশে প্রকাশ্য দিবালোকে দৃশ্যমান গাছ কাটার ব্যাপারে স্থানীয় বনবিট এবং বন রেঞ্জ কর্মকর্তারা খবর রাখেন না। রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ অফিসার জহুরুল হক বলেন, পোমরা নার্সারী অফিসের তত্ত্বাবধানে এসব বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলে। পোমরা নার্সারী বন কর্মকর্তা সুধির কুমার বালা বলেন, কমিউনিটি ফরেস্ট্রি প্রকল্পের অধীনে সৃজিত বাগানের গাছ বরাদ্দপ্রাপ্তরাই প্রয়োজনে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের কিছু করার নেই। তিনি পুনরায় মোবাইল ফোনে বলেন, ওইসব বাগান পোমরা বনবিটের অধীনেই। পোমরা বিট কর্তৃপক্ষই সঠিক বলতে পারবে। যোগাযোগ করা হলে পোমরা বিট কর্মকর্তা সুরজিত চৌধুরী বলেন, বাগানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন অথবা কমিউনিটি ফরেস্ট্রির প্রকল্পের আওতায় হতে পারে। একই বন রেঞ্জের অধীনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের জঙ্গল নিচিন্তাপুর এলাকায় কোদালা বনবিটের আওতাধীন সামাজিক বনায়নের বাগান থেকে দেড়লাখ চারাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গত ১০-১৫ দিনে এসব গাছের অর্ধেক ইটভাটায় নিয়ে গেছে পোড়ানোর জন্য। অসাধু বনকর্মীদের যোগসাজশে অংশীদাররা এসব গাছ কেটে পাচার করেছে। এলাকাবাসীরা জানায়, ইটভাটার মালিকরা মোটা অংকের লোভ দেখিয়ে সামাজিক বনায়নের এসব গাছ কিনে নিয়েছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের ঘাগড়া এলাকার ইটভাটার মালিক কামালউদ্দিন জানান, ১৬ থেকে ১৭ জন মালিক বনাঞ্চল থেকে প্রায় ১০ হেক্টর জমির ২ লাখ গাছ কিনেছে। তম্মধ্যে প্রায় দেড়লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বাকি গাছ কাটা চলছে। এরমধ্যে তিনি এক হেক্টর জমির ৩০ হাজার চারাগাছ ৭ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছেন বলে জানান।
সামাজিক বনায়নের অংশীদার মো. ইউসুফ জানান, তারা ৬ জন অংশীদার মিলে এক হেক্টর জমির চারাগাছ বিক্রয় করেছেন। সেখান থেকে পাওয়া ৮ লাখ টাকার মধ্যে কোদালা বনবিট কর্মকর্তাকে দিতে হয়েছে অর্ধেক। বনকর্মীরা গাছ কাটা তদারকি করছেন বলে জানান তিনি। রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের কোদালা বিট কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, জঙ্গল নিচিন্তাপুর থেকে গাছ কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার সাথে বনবিভাগের কোন যোগসাজশ নেই। গাছ কাটায় জড়িত ব্যক্তি ও ১৫-১৬ জন অংশীদারের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি বনমামলা করা হয়েছে।
