উত্তর প্রদেশের রাজধানী শহর লখনৌতে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বিরুদ্ধে সম্মিলিত ‘মহাজোট’? এর প্রার্থী হলেন বিজেপিত্যাগী অভিনেতা বিদায়ী এমপি শত্রুঘ্ন সিনহার স্ত্রী পুনম সিনহা। তিনি সমাজবাদী পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তাকে সমর্থন দিয়েছে জোটের শরিক বহুজন সমাজ পার্টি, রাষ্ট্রীয় লোক দল। এই আসনে পুনমকে সমর্থন করার শর্তেই শত্রুঘ্ন সিনহা কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন এবং বিহারের পাটনা সাহিব আসন থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন। যদিও উত্তর প্রদেশে জাতীয় কংগ্রেস সেই শর্ত মানেনি। তারা প্রার্থী করেছে প্রমোদ কৃষ্ণানকে। ফলে নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের শহরে এবার ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে।
২০১৪ সালে এই আসনে রাজনাথ সিং কংগ্রেসের প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন ২ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে। রাজনাথ পেয়েছিলেন ৫ লাখ ৬১ হাজার ১০৬টি ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছিলেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৭টি ভোট। বহুজন সমাজ পার্টি এবং সমাজবাদী পার্টি পেয়েছিল যথাক্রমে ৬৪ হাজার ৪৪৯ এবং ৫৬ হাজার ৭৭১ ভোট। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিয়ালের দল আম আদমি পার্টির প্রার্থী পেয়েছিলেন ৪১ হাজারের কিছু বেশি ভোট।
২০১৭ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ভিত্তিতে বিজেপি লখনৌতে এগিয়ে রয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে। সে সময় সমাজবাদী পার্টি এবং জাতীয় কংগ্রেস একজোট হয়ে লড়লেও বহুজন সমাজ পার্টি লড়েছিল আলাদা। লখনৌ লোকসভা আসনের অন্তর্গত ৫ বিধানসভা আসনে বহুজন সমাজবাদী পার্টি পেয়েছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪১ ভোট।
প্রার্থী হিসেবে পুনমের নাম ঘোষণার আগেই নিজেদের হোমওয়ার্ক সেরে ফেলেছে সমাজবাদী পার্টি। দলের এক নেতার মতে, ?লখনৌয়ে ৪ লাখ কায়স্থ, ১ লাখ ৩০ হাজার সিন্ধি ভোটার আছেন। মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখ। পুনম সিন্ধি। তাঁর স্বামী শত্রুঘ্ন কায়স্থ। সুতরাং প্রার্থী হিসেবে এই দু’?টি বিষয় তাঁকে এগিয়ে রাখবে।
বিজেপি অবশ্য পুনমকে আদৌ গুরুত্ব দিতে চাইছে না। দলের সাধারণ সম্পাদক বিজয় পাঠক জানিয়েছেন, ?লখনৌ বরাবরই বিজেপি?র ঘাঁটি। উত্তর প্রদেশের রাজধানীর জন্য যথেষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন রাজনাথ সিং। লখনৌবাসীর সঙ্গে তাঁর জনসংযোগও দারুণ। বাইরে থেকে আনা কোনো প্রার্থী ভোটারদের মন জয় করতে পারবে না।
বিজেপিকে প্রধানমন্ত্রী উপহার দিয়েছিল লখনৌ। ১৯৯১ সাল থেকে টানা ৫ বার এখান থেকে জিতে এমপি হয়েছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। প্রতিবারই লক্ষাধিক ভোটে জিতেছেন। এবার কী হবে?? বিজেপির জয়ের ব্যবধান বাড়াবে?? নাকি মহাজোট চমক দেখাবে?? আজ সোমবারের ভোটে সেটাই নির্ধারিত হবে। যার ফল জানা যাবে ২৩ মে।?
