গণহারে যত্রতত্র মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে, মনিটরিং করার মতো কোনোরকম পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। তাই মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানিসহ (এমএলএম) যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের থাকা অতি আবশ্যক। গ্রাহক তিল তিল পরিশ্রম আর কষ্ট করে অর্জিত টাকা ব্যাংক কিংবা সমপ্রতি আগাছার মতো গজিয়ে ওঠা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির কাছে সঞ্চয় রাখে। ভবিষ্যতের চিন্তা মাথায় রেখে যুগ যুগ ধরে প্রত্যেক মানুষ তার উপার্জিত অর্থ সঞ্চয় হিসাব করে রাখতে বিশ্বাসের খাতায় নাম লিখিয়ে থাকেন। কিছু অসত্ ও ধূর্ত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির খপ্পরে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বহু মানুষ। কোটি কোটি অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে ওরা লাপাত্তা হয়। ভুক্তভোগীরা বিচারের আশায় সরকারের কাছে আবেদন ও প্রশাসনের আশু পদক্ষেপ কামনা করে খুইয়ে ফেলা অর্থ ফিরে পেতে অপেক্ষায় থেকেও পরিশেষে আর ফিরে পান না তাদের অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া হায় হায় কোম্পানির সন্ধান। যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা এসব কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধরতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনের। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ভুয়া হায় হায় কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা দেখান আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় প্রকৃত অপরাধী। অতঃপর ফের ভিন্ন নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে সর্বস্বান্ত করে সহজ-সরল মানুষদের। বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইনের দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ সময় মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। অভিযোগ আছে সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে অতিসমপ্রতি সারা দেশে ডেসটিনি গ্রুপসহ বিভিন্ন নামে বেশকিছু মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি (এমএলএম) সমবায়ের নামে আর্থিক জালিয়াতি করে মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিদ্যমান কোম্পানি আইন দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক জোরালো কোনো ভূমিকা নিতে পারছিল না এমনকি সমবায় সমিতি পরিদর্শন করতে পারলেও কোনোরূপ নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের ছিল না। ফলে এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমএলএম প্রতিষ্ঠানগুলো জালিয়াতির আশ্রয় নিতে থাকে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ধারায় সংশোধন করে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ সংশোধিত করেছে। এই আইনে বলবত্ থাকবে ২ বছরের মধ্যে দেশের সব ব্যাংকের পরিচালক ১৫ জনে সীমিত রাখতে হবে ও পরিচালক বাতিলের ক্ষমতাও বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় থাকবে। শুধু তাই নয় সংশোধনীতে জনসাধারণের কাছ থেকে যদি কেউ ব্যবসায় করার জন্য আমানত সংগ্রহ করে, তবে তাকে ব্যাংকিং ব্যবসায় বলে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি অন্য আইনে যাই থাকুক না কেন বাংলাদেশ ব্যাংক যদি মনে করে ওই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩১(১) বিধান লঙ্ঘন করেছে তবে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
মাল্টিলেভেল কোম্পানির লাগাম টেনে ধরার জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর সংশোধিত আইন কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস। নিঃস্ব হয়ে যাওয়া সরল মানুষগণ প্রতারণার ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগোপযোগী আইন মন্ত্রীসভায় পাস করে দেশের সব ব্যাংক ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির মনিটরিং নিজ তত্ত্বাবধানে নিয়ে ব্যাংকিংখাতকে অগ্রসর করতে দেশের মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।
ঢাকা
