এবার ইনজুরির শিকার নাজমুল!

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ২১:৩০
শ্রীলঙ্কা সফরের প্রস্তুতিপর্ব শুরু হতেই বাংলাদেশ দল কাবু হয়ে পড়েছে একটার পর একটা ইনজুরির আঘাতে। সেখানে পৌঁছানোর পরও চলছে ইনজুরির ছোবল। ইনজুরির শিকার হয়ে এবার ওয়ানডে সিরিজ থেকে সরে দাঁড়াতে হল ক্যারিয়ার জুড়েই ইনজুরির বিপক্ষে লড়তে থাকা পেসার নাজমুল হোসেনকে। কলম্বোতে অনুশীলনে পাওয়া পায়ের চোঁট এই কদিনেও কাটিয়ে উঠতে পারেননি নাজমুল। অবশেষে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে হাম্বানটোটায় টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছেন, নাজমুলের ওয়ানডে সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি খেলা হচ্ছে না; আগামীকালই ফিরে আসছেন তিনি। তার বদলি হিসেবে তরুণ পেসার তাসনিক আহমেদ আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু হাম্বানটোটা থেকে টিম ম্যানেজমেন্টের একটি সূত্র জানিয়েছে, নাজমুলের বিকল্প হিসেবে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন টেস্ট সিরিজ শেষেই ফিরে আসা শাহাদাত হোসেন রাজীব। অবশ্য প্রধান নির্বাচক আকরাম খান বললেন, তারা এখনো নাজমুলের বদলি পেসারের নাম ঠিক করেননি। তিনি দাবি করলেন, সেটা আজ ঠিক হবে, ‘আমরা আগামীকাল (আজ) চারজন বিকল্প খেলোয়াড়ের ব্যাপারে আলোচনা করবো। তারপর ঠিক হবে কে শ্রীলংকা যাবে।’ নাজমুল হাঁটুতে চোঁট পেয়েছিলেন নেট অনুশীলনে। কলম্বোতে জিয়াউর রহমানের করা নেটের শট সরাসরি এসে লেগেছিল নাজমুলের হাঁটুতে। গত কয়েকদিন ধরে দলের ফিজিও চেষ্টা করেছেন, তাকে ম্যাচ ফিট করে তোলার। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। অবশেষে গতকাল হাম্বানটোটায় সাংবাদিকদের ফিজিও বিভব সিং বলেছেন, তারা দু’দুজন অর্থোপেডিক সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ‘আমাদের চিকিত্সায় নাজমুলের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে তার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ শেষ হয়েই গেছে। আমরা এরই মধ্যে দু’জন অর্থপেডিক সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, নাজমুলকে বিশ্রামে দিতে হবে এবং পরে তারা বিবেচনা করবেন।’ এ অবস্থায় নাজমুলের আর খেলার আশা থাকে না। এর আগে বেশ কয়েকবার করে এরকম সিরিজ চলা অবস্থায় ইনজুরিতে পড়ে স্কোয়াড ছাড়তে হয়েছে নাজমুলকে। সবসময়ই অত্যন্ত কার্যকর ক্রিকেটার বলে বিবেচিত নাজমুল কখনোই টানা বেশিদিন খেলতে পারেননি ইনজুরির কারণে। নাজমুল সর্বশেষ বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালে। তারপর অনুশীলনে এরকম এক চোঁটের কারণেই এতোদিন মাঠের বাইরে ছিলেন। এবারও ফেরার পর একই ভাগ্যের শিকার হলেন। নাজমুলের ফেরায় বাংলাদেশ সত্যি সত্যিই বিপাকে পড়ে যাচ্ছে। এমনিতেই দলে পেসার ছিলেন মাত্র দু’জন। ইনজুরির কারণেই দলের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যেতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্যাম্পে থেকেও শেষ পর্যন্ত আরেক পেসার শফিউল ইনজুরির জন্য দলের সঙ্গী হতে পারেননি। আবার এই হাম্বানটোটাকে পেস বোলিং সহায়ক ভেন্যু বলেই মনে করা হয়। এখন একমাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে দলে রইলেন রুবেল হোসেন। অবশ্য সিমিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আছেন জিয়াউর রহমান। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার টেস্ট অভিষেক হয়নি। এ জন্যই আরেকজন স্পেশালিস্ট বোলার হিসেবে ১৭ বছর বয়সী তাসকিনকেই অনেকে আশা করছেন।