মিসবাহ উল হক এবং ইমরান ফারহাতের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ডারবানে গত বৃহস্পতিবার স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিন উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো পাকিস্তান। আর এই সাফল্যকে দলীয় বোঝাপড়ার ফসল হিসেবে অভিহিত করলেন অধিনায়ক মিসবাহ।
সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না মিসবাহর দলের জন্য। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবিডি ভিলিয়ার্সের সাথে টস হারাটা যেন শাপে বর হয়ে আসে পাকিস্তানের জন্য। টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা দলটিকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন পেসার ইরফান খান। ইনিংসের প্রথম দুটি বলেই তিনি ফিরিয়ে দেন দারুণ ফর্মে থাকা হাশিম আমলা এবং কলিন ইনগ্রামকে। স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ করার আগেই দুই ব্যাটসম্যান ফিরে যাওয়ার এই ধাক্কাই মূলত সামলে উঠতে পারেনি স্বাগতিকরা। ইরফানের পরে আরেক পেসার জুনাইদ খান ফেরান গ্রায়েম স্মিথ এবং ফারহান বেহারডিয়েনকে। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ভিলিয়ার্স এবং ডেভিড মিলার দলীয় সর্বোচ্চ ১১৫ রানের জুটি গড়ে সামাল দেন পরিস্থিতি। তবে ব্যক্তিগত ৬৭ রানে মিলারকে ফেরানোর পরে দুই ওভারবাদে ভিলিয়ার্সকেও তুলে নেন সাইদ আজমল। ভিলিয়ার্স করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৭৫ রান। এই দুজন ফিরে যাওয়ার পরে আর খুব বেশীদূর এগোতে পারেনি প্রোটিয়ারা। নির্ধারিত পঞ্চাশ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ২৩৪।
অপেক্ষাকৃত ছোট লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটাও হয় প্রতিপক্ষের মতোই । ৩৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলার পরে দলের হাল ধরেন মিসবাহ। অপরপ্রান্তে ছিলেন ওপেনার ইমরান ফারহাত। বহুদিন বাদে দলে ফেরা ফারহাত অপেক্ষাকৃত মন্থর গতিতে ব্যাটিং করলেও প্রান্ত বদলের কাজটা করেন ঠিকভাবেই। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন যোগ করেন ১৫৫ রান যা কিনা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যে কোন উইকেট জুটিতে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। অল্প রানের ব্যবধানে দুজনেই বিদায় নিলে শেষ দিকে শঙ্কা ঘিরে ধরে পাকিস্তানকে। তবে শোয়েব মালিক ওয়াহাব রিয়াজকে সাথে নিয়ে বাকি পথটুকু নিরাপদেই পাড়ি দেন।
সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ফিফটির দেখা পাওয়া মিসবাহ জয়ের কৃতিত্ব ভাগ করে দিতে চাইলেন সবার মাঝে। অল্পরানেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে বেঁধে ফেলায় বোলারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মিসবাহ বলেন,‘মাঠে সবাই শতভাগ ঢেলে দিয়েছে। এই জয়কে দলীয় বোঝাপড়ার ফসলই বলবো আমি। ফারহাত সত্যিই দারুণ ব্যাটিং করেছে। আমাদের এমন একজন দরকার ছিল যে কিনা শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করবে। আর বোলাররা যেভাবে শুরুটা করেছিল সেটা ছিল নিখুঁত। স্বপ্নের মতোই হয়েছে শুরুটা। আমলাকে অল্পতেই ফিরিয়ে দিয়েছি আমরা। বোলিং সাফল্যের পেছনে আজমল ছিল মূলব্যক্তি। আর (শোয়েব) মালিক দারুণভাবে শেষ করেছে।’
সিরিজ নির্ধারণী পরবর্তী ম্যাচটি বেনোনিতে আগামী ২৪ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে।
স্কোরকার্ড :
দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস
আমলা ক কামরান ব মোহাম্মদ ইরফান ০
জি স্মিথ ব ইরফান ১২
সি ইনগ্রাম ব ইরফান ০
ভিলিয়ার্স ক কামরান আকমল ব আজমল ৭৫
বেহারদিয়েন ক কামরান ব জুনায়েদ খান ১
ডি মিলার এলবিডবি¬উ ব সাইদ আজমল ৬৭
আ. ম্যাকলায়েন ক ইরফান ব আজমল ১১
আর পিটারসন অপরাজিত ২৫
আর ক্লেইনভেল্ডেট ব ইরফান ১৮
ডি স্টেইন ব জুনায়েদ খান ৯
এল তেসাবে অপরাজিত ৫
অতিরিক্ত (লেবা-২, ও-৯) ১১
মোট ৯ উইকেট ৫০ ওভার ২৩৪
বোলিং ঃ মোহাম্মদ ইরফান ৯-০-৪৬-৩ (ও-২), জুনায়েদ খান ৯-২-৪৫-৩ (ও-১), মোহাম্মদ হাফিজ ১০-০-৪০-০, ওয়াহাব রিয়াজ ৪-০-১৬-০, সাইদ আজমল ১০-০-৪২-৩ (ও-১), শহিদ আফ্রিদি ৮-০-৪৩-০ (ও-১)।
পাকিস্তান ইনিংস ঃ
ইমরান ফরহাত ক বেহারদিয়েন ব স্টেইন ৯৩
মোহাম্মদ হাফিজ ফিল্ডিংয়ে বাধা ০
কামরান আকমল ক মিলার ব তেসাবে ১১
উইনিস খান ব ক্লেইনভেল্ডেট ৬
মিসবাহ উল হক ক বেহারদিয়েন ব পিটারসন ৮০
আফ্রিদি ক ডি ভিলিয়ার্স ব পিটারসন ৪
শোয়েব মালিক অপরাজিত ১৯
ওয়াহাব রিয়াজ রানআউট (মিলার) ০
সাইদ আজমল অপরাজিত ৫
অতিরিক্ত (বা-১, লেবা-৪, ও-১৩) ১৮
মোট ৭ উইকেট, ৪৮.৪ ওভার ২৩৬
বোলিং ঃ স্টেইন ১০-৩-২৬-১, তেসাবে ৯.৪-১-৫১-১ (ও-২), ক্লেইনভেল্ডেট ১০-০-৫১-১ (ও-৫), পিটারসন ১০-০-৪৬-২, ম্যাকলারেন ৮-০-৪০-০ (ও-৬), ইনগ্রাম ১-০-১৭-০
টস ঃ দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যাচসেরা মিসবাহ উল হক (পাকিস্তান)
সিরিজ ঃ ৫ ম্যাচ সিরিজে ২-২ সমতা।
