টানা ২২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত ছিলেন, বিএনপি পারিবাস ওপেনের সেমিফাইনালে এসেই ঘটে বিপত্তি। হেরে যান আর্জেন্টাইন তারকা দেল পোত্রোর কাছে। তবে এবার আর পিছনে তাকাতে চান না সার্বিয়ান টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ। আর এটিপি মিয়ামি ওপেন মাস্টার্সে তার সামনে সেই সুযোগ থাকছে। এই টুর্নামেন্টে খেলছেন না বড় দুই তারকা রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদাল।
চলতি বছরের শুরুটা দুর্দান্তই করেছিলেন জকোভিচ। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা ঘরে তুলেন তিনি। এখানেই থেমে থাকেনি জকোভিচ চমক। এরপর দুবাই ওপেনের শিরোপার স্বাদ নিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন।
দুবাই ওপেনের পর ইন্ডিয়ান ওয়েলসেও শুরুটা দারুণ করেন জকোভিচ। সেমি-ফাইনালে উঠে আরো একটি শিরোপার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি; কিন্তু ওখানেই ভাগ্য বেঈমানি করে তার সাথে। আর্জেন্টিনার হুয়ান দেল পোত্রোর কাছে হেরে সেমি থেকেই বিদায় নেন জকোভিচ। সেই সাথে চলতি বছর প্রথম হারের স্বাদও পান তিনি। চলতি বছর টানা ১৬টি ম্যাচ জয়ের পর হারের সাথে পরিচিত হলেন জকোভিচ।
এরপরের বছরটা বেশ ভালোই কেটেছে জকোভিচের। চলতি বছর দুইটি শিরোপা ও একটি রানার আপের স্বাদ নিয়ে মিয়ামি টুর্নামেন্টে খেলতে নামছেন জকোভিচ। মিয়ামি টুর্নামেন্টেরও শিরোপা জয় করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে তার। কারণ ইনজুরির কারণে টপ ফেভারিট ফেদেরার ও নাদাল অংশ নিচ্ছেন না এবারের আসরে। তাই শিরোপার পথটা অনেকাংশেই সহজ জকোভিচের। তেমনটা নিজেও জানেন জকোভিচ, ‘আমি নিশ্চিত, তারা না থাকায় আমার জন্য টুর্নামেন্টটি বেশ সহজই হবে। শিরোপা জয়ের ভালো সুযোগও রয়েছে আমার। টুর্নামেন্ট নিয়েই আমি সবচেয়ে বেশি ভাবছি এবং আশা করছি শতভাগ সাফল্য পাবো। তবে আমাকে অনেক পরিশ্রমও করতে হবে।’
যদিও এরপরেও টুর্নামেন্টটিকে মোটেই সহজ চোখে দেখছেন না জকোভিচ। তার ভাষায়, ‘নাদাল ও ফেদেরার না থাকলেও টুর্নামেন্টটিতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসবে না। তারা না থাকার পরেও এটা বেশ দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে।’
টুর্নামেন্টটির সময়সূচির ব্যাপারেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই সার্বিয়ান। আগের পাঁচটি আসরেই ফাইনাল হয়েছিল সোমবার। তবে এবার সোমবারের পরিবর্তে ফাইনাল হবে রবিবারে। জকোভিচ বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই খুশি যে, ফাইনালটি সোমবার হবে না। আগের পাঁচবারই বৃষ্টি ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল ফাইনালে। আশা করছি এবার আর সেই সমস্যাটি হবে না।’
দেল পোত্রোর বিপক্ষে হারের স্মৃতি এখনো টাটকা জকোভিচের। তাই ঐ ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে পিছপা হননি তিনি, ‘ঐ ম্যাচে পোত্রো খুবই ভালো খেলেছে। ম্যাচটি চ্যালেঞ্জের ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে হারতে হয়েছে। তিন ঘণ্টা লড়াই করতে হয়েছে আমাকে। কিছু পয়েন্ট ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দেয়। ফলে ম্যাচটি আয়ত্তে নিতে পারিনি আমি।’
এবার টুর্নামেন্টটি আয়ত্তে নিতে পারেন নাকি জকোভিচ, এখন সেটাই দেখার ব্যাপার!
