তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিএনপিকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে। জোটের অনেক নেতা আফগানিস্তানে ট্রেনিং নিয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘জঙ্গিবাদ নির্মূলে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ভারতে জঙ্গি হামলায় ৪০ জওয়ান নিহত হওয়ার পর ওই দেশের সব বিরোধীদল জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমাদের দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল জঙ্গিদের রাজনৈতিক মিত্র এবং সহযোগী হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সেই হাওয়া ভবনের পরিকল্পনায় ২১ আগস্টের হামলা হয়, যা আজ আদালতে প্রমাণিত। তাদের সময়েই বাংলা ভাই হয়ে ওঠার পেছনে প্রশাসনিক সহায়তা দেয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে বিএনপি জঙ্গিদের ব্যবহার করে। মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে পারিবারিক শিক্ষা ও বন্ধন দৃঢ় করে সন্তানদের জঙ্গিবাদীমুখী হওয়ার রোধ করার আহ্বান জানান তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যখন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অভিযান চালাচ্ছিল তখন বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। বিএনপিকে ‘সংবাদ সম্মেলনভিত্তিক দল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা এখন শুধু সংবাদ সম্মেলন করে আর হঠাত্ হঠাত্ নিষিদ্ধ সংগঠনের মতো কোথাও চোরাগোপ্তা মিছিল করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলেই এই দুর্যোগে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এরপরও তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা ছিল, তত মানুষ মারা যায়নি। দুর্যোগ-দুর্দশায় মানুষের সঙ্গে তামাশা না করে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা মাহমুদা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ওয়াহিদ, মহিলা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক সোহেলা আফসানা ইকো।
