মহানগরী স্কুল হকি

শিরোপা জিতলো পিএম পাইলট স্কুল

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৩, ২১:৪২
জিনজিরার পিএম পাইলট স্কুল চ্যাম্পিয়ন হলো অঞ্জন শহীদ স্মৃতি মহানগরী স্কুল হকিতে। গতকাল রবিবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ফাইনালে ছোটদের এ প্রতিযোগিতায় ছোটরাই ছিল মুলত দর্শক। বিশেষ করে ফাইনালে ওঠা দল দু’টির ছাত্ররা মাঠে ঢোল বাদ্য বাজিয়ে একটা উত্সব মুখর পরিবেশ এনেছিলেন। যদিও খেলা শেষে এক পেশে হয়ে যায় আনন্দ উল্লাস। কেননা বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে অবস্থিত পিএম পাইলট স্কুল সাডেন ডেথে ৫-৪ গোলে ফতুল্লা পাইলট স্কুলকে হারিয়ে শিরোপা তুলে নেয়। তারপরও আনন্দে কাঁদছিলেন দলের গোলকিপার সাব্বির হোসেন সৌরভ। কারণ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সাডেন ডেথে এই গোলকিপার প্রতিপক্ষের সোহেলের হিট ঠেকিয়ে দিয়েই দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা সহজ করে দেন। নইলে নির্ধারিত সময়ে খেলাটিতে ছিল ১-১ গোলের সমতা। এমনকি টাই ব্রেকারও শেষ হয় ৪-৪ গোলে। দুর্ভাগ্য ফতুল্লা পাইলট স্কুলের, খেলার ২২ মিনিটে শাহরিয়ার চৌধুরির গোলে ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এরপর খেলার তিন মিনিট বাকি থাকতে পিএম পাইলট স্কুল শাকিলের পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে সমতা আনে (১-১)। টাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন জিনজিরার পিএম পাইলট স্কুলের শাকিল, মুরাদ খান, মাইনুদ্দিন, অর্ণব গোল করলেও বাইরে মারেন ইমন আলী। ফতুল্লা পাইলট স্কুলের সোহেল, আল আমিন, সবুজ হোসেন, মিন্টু গোল করেন আর হারুন মোল্লা ব্যর্থ হন। সাডেন ডেথে পিএম পাইলট স্কুলের অর্ণব গোল করেন। ফতুল্লা পাইলট স্কুলের সোহেলের হিট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার সৌরভ। খেলা শেষে সৌরভ আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বললেন, টাইব্রেকারের হিটগুলো ঠেকাতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল খেলাটাই ছেড়ে দেই। আল্লাহকে ডাকছিলাম। তিনি আমার কথা শুনেছেন। আমরা সফল হয়েছি। স্কুলটির নবম শ্রেণীর ছাত্র সৌরভ চায় জাতীয় দলে খেলার জন্য। আমি ভালো খেলোয়াড় হয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে চাই।’ টুর্নামেন্টের চার ম্যাচে সাত গোল করে সেরা গোলদাতা হয়েছেন নাসিম ইসলাম সোহেল। ফুটবল খেলায় সুযোগ না পেয়ে হকিতে জায়গা করে নেয়া এই ফরোয়ার্ড কাল সেরা গোলদাতার পুরস্কার পেয়েও খুশি হতে পারেনি। কারণ এবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তার দল। গতবারও রানার্সআপ হয়েছিল ফতুল্লা পাইলট হাই স্কুল। সোহেলের বাবা আবুল কাশেম রি রোলিং মিলে চাকরি করেন। আগাম বেতন নিয়ে ছেলেকে কেডস কিনে দিয়ে হকি মাঠে পাঠিয়েছিলেন খেলার জন্য। কাল সোহেল পেয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় আক্তার, ফেয়ার প্লে ট্রফি পেয়েছে আরমানীটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ দলকে ১৬টি করে হকি স্টিক দিয়েছে ফেডারেশন। পুরস্কার বিতরণ করেছেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান। পিএম পাইলট স্কুল ঃ সৌরভ, শাকিল, রবিন, মুরাদ, রিয়াজ, মাইনুদ্দিন, রবিউল হাসান, ইমন আলী, রাশেদ, অর্ণব, নাবিল, জনি, সোহান, আক্তার, রাহাত, কামরুল। ফতুল্লা পাইলট স্কুল ঃ তানজিল হোসেন, সোহেল, আল আমিন, ফারুক, শামীম, হেলাল, সবুজ হোসেন, মিন্টু, শাহরিয়ার, হারুন, নাইম উদ্দিন, গোলাম রাব্বি, হাসান, শাওন, মাঈম, সাবিত।