স্বাধীনতার আনন্দ উচ্ছ্বাসে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪৬
তরুণদের এক চিলতে হাসি যেন, অগ্রজদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতারই রিফ্লেকশন। বর্তমান তারুণ্যকে বলা যায় অনেকটাই উল্টানো নারকেলের মতো। ওপরটা সাদা ও নরম, ভেতরটা বাদামি ও কঠিন। ওপরটা হলিউডি-বলিউডি, ভেতরটা কিন্তু পাক্কা স্বদেশি। প্রতিটি দিবস এলেই তারুণ্যের উচ্ছ্বাস বরাবরই থাকে চোখে পড়ার মতো। তাই আসছে স্বাধীনতার উত্তাল মার্চে তারুণ্যের ভাবনাগুলো নিয়ে এবার আলোচনা যারা তরুণ তাদের দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ অন্য যে কারও চেয়ে আলাদা, স্বতন্ত্র। দেশের প্রতি এই স্বতন্ত্র প্রেম আর ভালোবাসার প্রমাণ তারা দিয়ে আসছে সেই ১৯৭১ সাল থেকে। মৃত্যুকে সঙ্গী করে তারা এগিয়ে গেছে লাল-সবুজের পতাকাকে ছিনিয়ে আনতে। এনেছেও। সেই পতাকা এখন পতপত করে ওড়ে মুক্ত বাতাসে। আর এর ধারক বাহক আজকের তরুণরাই। যারা দেশপ্রেমের দৃপ্ত অঙ্গীকারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাদের ভেতর বাহির সবই নিবেদিত দেশের জন্যে। তাদের ভেতরটা জুড়ে যে কেবল দেশের ছবিই আঁকা তার প্রমাণ মেলে যখন তারা উচ্ছ্বাস ভরা কণ্ঠে গেয়ে ওঠে দেশের গান—‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে’ কিংবা ‘মাগো ভাবনা কেন আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে...’। এই যে দেশের গান, দেশাত্মবোধক গান, এই গানগুলো জনপ্রিয় করেছে মূলত তরুণরাই। কোনো ঘটনা বা সময় কৃষ্ণপক্ষ ডেকে আনলেও বাঙালি নিরাশ না হয়ে আশায় বুক বেঁধে থাকে, আর সঠিক সময়কে ফিরিয়ে আনার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে আন্দোলনও করে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এবার লাখ লাখ মানুষ পথে নামবে স্বাধীনতা দিবসে উত্সব পালনে। বুড়ো, যুবা, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ নেমে আসবে বানের ঢলের মতো। বিশেষ করে নতুন নতুন প্রজন্মের হাতে, বুকে কপালে শোভা পাবে লাল-সবুজের পতাকা, আর কণ্ঠে স্বাধীনতার সোচ্চার আওয়াজ। দীপ্ত শপথে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়, উদাত্ত কণ্ঠের গানে অন্যান্যবারের মতো এবারও শহর পরিণত হবে উত্সবের শহরে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সপ্তদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বাধীনতা উত্সব। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এবারও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। সে সঙ্গে চলছে সাত দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা। মেলা সকাল ১০টা থেকে শুরু হলেও উত্সবের অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে বিকেল ৪টায়। মিরপুরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জল্লাদখানা বধ্যভূমি স্মৃতিপীঠেও শুরু হয়েছে তিন দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজন। অনুষ্ঠান শুরু হবে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৪টায়। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় চলছে প্রাচ্যনাটের ছয় দিনের নাট্যমেলা। এর আগে জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে প্রাচ্যনাট মঞ্চস্থ করে ‘অ্যা ম্যান ফর অল সিজনস’ এবং পরীক্ষণ থিয়েটার হলে থিয়েটার আর্ট ইউনিট পরিবেশন করে ‘কোর্ট মার্শাল’। প্রতীকী এ নাটকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উঠে এসেছে অত্যন্ত জোরালো ভাষায়। এ ছাড়া স্বাধীনতার দিনে পথে প্রান্তরে-টেলিভিশন, মঞ্চে সবখানেই বেজে উঠবে স্বাধীনতার গান, বেজে উঠবে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে...’, ‘এ সূর্যের উদয়পথ শহীদের খুনে লাল...’, ‘ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে...’, ‘আজি এ বাংলাদেশের হূদয় হতে...’, ‘সঙ্কটে বিহ্বলতায় নিজেরে...’ ‘আমার প্রতিবাদের ভাষা...’, ‘সোনায় মোড়ানো বাংলা মোদের শ্মশান করেছে কে...’, ‘কি যে আজগুবি কারবার ওদের চিনতে হয় বারবার...’, ‘বাংলাদেশের হূদয় হতে...’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে..’, ‘শব্দ, একটি শব্দ, একটি গুলির শব্দ...’, ‘ও আমার বাংলা মা তোর...’, ‘ফিরে চল মাটির টানে...’ প্রভৃতি গান।