উত্সব এলেই বাঙালি নিজেকে নবরূপে সাজাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কি পোশাক কি চুলের স্টাইলে নিয়ে আসেন নতুনত্বের ছোঁয়া। তেমনি স্বাধীনতাসহ বিশেষ দিবসে হাতে মুখে রংতুলির আঁচড়ে নানা রকম ছবির মাধ্যমে নিজের আবেগকে প্রকাশ করেন স্বচ্ছন্দচিত্তে।
বিভিন্ন উত্সব ও অনুষ্ঠানে রং যেন একটা অবধারিত অংশ হয়ে গেছে এ সময়। আজ বাঙালি প্রাণের নানা আয়োজনে এখন রং দিয়ে মুখের নানা পাশে কিংবা হাতের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন আল্পনা এঁকে সেই উত্সব ও আনন্দের চিহ্ন প্রকাশ করে থাকে। তখন মুখের ক্যানভাস যেন হয়ে উঠে শিল্পীর সেই প্রিয় ক্যানভাস। মুখের মধ্যে এ আল্পনা আঁকার প্রবণতা আমাদের এই নতুন প্রজন্মকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। যার ফলে এখন আর একটি-দুটি অনুষ্ঠান নয়, প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই বিশেষ করে আমাদের জাতীয় দিবসগুলোতে যেমন মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি কিংবা উত্সব যেমন বাংলা নববর্ষ, বসন্ত উত্সবের মতো আয়োজনগুলোতে মুখে বিভিন্ন আল্পনা আঁকা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন প্রায় সব ধরনের জাতীয় উত্সবগুলোর একটি অনুষঙ্গ মুখ চিত্রাঙ্কন। এ কাজগুলো সাধারণত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্ররা করে থাকে। বিশেষ করে যারা চারুকলাতে প্রথম বর্ষে পড়ে তারাই এ কাজগুলো বিভিন্ন সাফল্যের সাথে করে থাকে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস যেমন মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারির মতো দিবসগুলোতে যখন বিভিন্ন বয়সের লোকজনরা একই ছায়াতলে মিলিত হয় তখন বিভিন্ন মানুষ শখ করে তাদের গাল, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ বা নানা আল্পনাই এঁকে থাকে। এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের এক ছাত্র বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম বর্ষে ছিলাম তখন এই সব অনুষ্ঠান উপলক্ষ করে আমরা রাস্তায় রংতুলি নিয়ে দাঁড়াতাম তখন ২০ থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে আমরা বিভিন্ন জনের মুখে বিভিন্ন ছবি এঁকে দিতাম। সারাদিন এভাবে ছবি এঁকে সন্ধ্যার পর যখন হলে যেতাম তখন টাকাগুলোকে একসাথে করলে দেখতাম অনেকগুলো টাকা জমা হয়েছে। সে সময় খুবই আনন্দ পেতাম। এ ছাড়াও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর মাধ্যমে আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে নতুনদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারছি। যার ফলে আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে বলেও আমি মনে করি।’ এসব ছবি আঁকার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রংতুলির প্রয়োজন হয়। মুখে ছবি আঁকার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ফেব্রিক কালার। এ ছাড়া অ্যাক্রোমিন রং অথবা প্লাস্টিক রঙের মাধ্যমেও আঁকা যায়। যথেষ্ট কম দামে এসব রং পাওয়া যায়। ফেব্রিক রঙের ছোট কৌটা ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে, মিডিয়াসহ অ্যাক্রামিন রং প্রতিকৌটা ২০ থেকে ৫০ টাকা, অ্যাক্রলিক রং প্রতি টিউব ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্লাস্টিক রং ৩০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া যায় বিভিন্ন রঙের মার্কেটে।
