শিবচরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ১৩:০৩

মাদারীপুরের শিবচরে পৌর এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে নবম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্রী ইন্নি আক্তারের (১৩) রক্তমাখা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ৭১ উৎসব চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত ইন্নি আক্তার শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি এলাকার মৃত ইলিয়াস মৃধার মেয়ে এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার মা শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মচারী হিসেবে কাজ করায় শিবচর পৌরসভার স্বাস্থ্য কলোনী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ইন্নি তার মায়ের সাথে বসবাস করতো।

 

পুলিশ বলছে, আবাসিক ওই হোটেলের কক্ষ থেকে একাধিক যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়া যায়। তাদের ধারণা, একাধিকবার ধর্ষণের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রবিবার রাত ১০টার দিকে কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট এলাকা থেকে রুবেল খান (২৩) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। আটক রুবেল শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের মুন্নচরকান্দি এলাকার মৃত তোতা খানের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই হোটলের ব্যবস্থাপক মো. খায়রুল ও হোটেলের কর্মী রোনাল্ডকে আটক করে পুলিশ।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে কক্ষ ভাড়া নেয় ইন্নি ও রুবেল। পরে ইন্নিকে যৌন উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে রুবেল। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইন্নির মারা গেলে কৌশলে হোটেল থেকে রুবেল পালিয়ে যায়। রাতে ওই হোটেলের এক কর্মচারী রুমের দরজা খোলা অবস্থায় ইন্নির লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে হোটেলের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে রুবেল নামে ওই তরুণকে কাঠালবাড়ি ফেরিঘাট থেকে আটক করা হয়।

 

শিবচর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, ‘ওই স্কুলছাত্রীর শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে যতটুকু জেনেছি ওই স্কুলছাত্রীর যৌনাঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। আমরা ধারণা করছি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।’

 

ইত্তেফাক/এএম