ব্যাটিং ব্যর্থতাকে দুষলেন মিসবাহ

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৩, ২১:০৪
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের খুব কাছে এসেও শেষ পর্যন্ত জিততে না পারার জন্য পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক দুষলেন দলের ব্যাটিং ব্যর্থতাকে। মাত্র এক রানে জীবন পাওয়া এবিডি ভিলিয়ার্সের দারুণ এক ইনিংসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সহজ জয়েই ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জিতলো স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। এর পাশাপাশি বিজয়ী দলকে তাদের প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতে কার্পণ্য করেননি তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় স্কোরবোর্ডে আমরা যথেষ্ট রান তুলতে পারিনি। আমরা যেভাবে শুরু করেছিলাম তাতে ২৫০ রান তোলা খুব সম্ভব ছিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোয় সেটা আর হয়নি। তবে এটা বলতেই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণ খেলেছে।’ ২০৫ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ধাক্কা খায় ফ্যাফ ডুপ্লেসিসের বদলে সুযোগ পাওয়া কুয়েন্টন ডি কককে হারিয়ে। দলীয় ১২ রানে তাকে ফেরান পেসার জুনায়েদ খান। এই ধাক্কা সামলানোর আগেই উইকেটের অসমান বাউন্সকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে দ্বিতীয় আঘাতটা দেন পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ। কলিন ইনগ্রাকে ১৫ রানে ফেরান তিনি। এরপরে ৬৫ বল মোকাবেলা করে ২২ রান করা আমলাকে ইরফান খান ফিরিয়ে দিয়ে ছোট পুঁজি নিয়েও লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয় পাকিস্তান। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ফারহান বেহারদিয়েনের সাথে ৮৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন ডি ভিলিয়ার্স। উইকেটে ভিলিয়ার্স ছিলেন বরাবরের মতো দারুণ স্বচ্ছন্দ। দুদলের বাকি ব্যাটসম্যানদের যেখানে রানের জন্য রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে সেখানে ভিলিয়ার্স মাত্র ৫৩ বলে তুলে নেন সিরিজে তার তৃতীয় ফিফটি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেঞ্চুরি পাওয়া না হলেও ৯৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। ১১১ বলের এই ইনিংসে নয়টি চারের পাশাপাশি ছিল একটি ছয়। ভিলিয়ার্সের এই ইনিংসটি অবশ্য শেষ হয়ে যেতে পারতো অনেক আগেই। উইকেটে নেমে মাত্র একটি বল মোকাবেলা করার পরেই জুনায়েদের বলে স্লিপে দাঁড়ানো ইউনিস খানকে ক্যাচ দেন ভিলিয়ার্স। তবে সেটা তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন ইউনিস। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ম্যাচ হেরেই এই ক্যাচ ছাড়ার খেসারত দিতে হলো। ম্যাচসেরার পাশাপাশি সিরিজে এক সেঞ্চুরি এবং দুই হাফ সেঞ্চুরির পুরস্কার স্বরূপ সিরিজ সেরাও নির্বাচিত হয়েছেন ভিলিয়ার্স। এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ইনিংসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বড় স্কোরেরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ৩৪ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল চার উইকেটে ১৫০। তবে রায়ান ম্যাকলারেন একই ওভারে শোয়েব মালিক এবং শহীদ আফ্রিদিকে তুলে নিলে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। এই ধাক্কা আর সামলে ওঠা হয়নি সফরকারীদের। শেষ পর্যন্ত তারা অল আউট হয়ে যায় ২০৫ রানে। ৩২ রানে তিনটি উইকেট নেন ম্যাকলারেন।