দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চলতি ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এই শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। এবারে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ২ হাজার ৬৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। মোট পাসের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়েদের পাসের হার ৮৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ আর ছেলেদের পাসের হার ৮২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ২৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রর সংখ্যা ৪ হাজার ৮৪১ জন ও ছাত্রীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৮২ জন।
আরও পড়ুন: যশোরে তিন বিভাগেই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে
গত বছরে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬২ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ৭৫৫ জন। তবে গত বছরে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল, গত বছরে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৮ জন। আর পাস করেছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭৬ জন।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর তোফাজ্জুর রহমান জানান, এবারে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছরে যার সংখ্যা ছিল ৫টি। আর শতভাগ পাসকরা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩৮টি, গত বছরে যার সংখ্যা ছিল ৮৪টি। এতেই প্রতিয়মান হয় এবারে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল ভাল। বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করায় ফলাফল ভাল হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায়, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল ভাল। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ, মানবিক বিভাগে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও বাণিজ্য বিভাগে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর সব বিভাগেই পাশের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভাল করেছে। মেয়েদের পাসের হার ৮৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ আর ছেলেদের পাসের হার ৮২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এবারে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ৪৪ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় মোট ২৬৭টি কেন্দ্রে এবারে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে।
এবারে রংপুর জেলায় পাসের হার ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪৩৫ জন। গাইবান্ধা জেলায় পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৭ জন। নীলফামারী জেলায় পাসের হার ৮৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১১৬ জন। কুড়িগ্রাম জেলায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০৩ জন। লালমনিরহাট জেলায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২৫ জন। দিনাজপুর জেলায় পাসের হার ৮৫ দশমিক ২১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৯৪ জন। ঠাকুরগাঁও জেলায় পাসের হার ৭৯ দশমিক ৮১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫১ জন ও পঞ্চগড় জেলায় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭২ জন।
ইত্তেফাক/এমআরএম
