রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ঘুরে এলাম পাহাড়পুর

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪৭
বনভোজন আয়োজনের প্রস্তুতি যখন চলে তখন থেকেই সবার মনে জিজ্ঞাসা ছিল এবার কোথায় যাওয়া হচ্ছে? কেউ বলছিলো, এবার ময়মনসিংহের গাড়ো পাহাড় আবার কেউ প্রকৃতিকন্যা হিসাবে খ্যাত সিলেটের জাফলং কেউবা সুন্দরবন। পরে অবশ্য বনভোজনের প্রথম মিটিংয়ে নির্ধারণ করা হয় নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার। মার্চের ৬ তারিখ ক্যাম্পাস থেকে গাড়ি সকাল সাড়ে ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও বনভোজনের প্রধান আয়োজন খাবার প্রস্তুতিতে খানিকটা বিলম্ব হতে থাকে। খাদ্য কমিটির সদস্যরা তাদের নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। সবার একই প্রশ্ন, আর কতক্ষণ? গাড়ি যখন গন্তেব্যের উদ্দেশে ছাড়ে তখন ঘড়ির কাঁটা ৮টা ছাড়িয়েছে। গাড়ির গতি যতই বাড়তে থাকে ততই গাড়ির ভেতরে চলে আনন্দ-উল্লাস। নাচ-গানে সবাই ছিল আনন্দে মাতোয়ারা। যেন ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’। গাড়িতেই সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয়েছে বলে জানান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সুমন, মিলন, রফিক। গাড়িতে আনন্দ দেখে অনুমান করা গেছে গন্তব্যে পৌঁছে কী রকম আনন্দ হবে। তিন ঘণ্টা পর গাড়ি যখন বৌদ্ধবিহারে পৌঁছে তখন অনেকের শরীর ছিল ক্লান্ত। রোদে গাড়ির ভেতরও ছিল অনেক গরম। প্রকৃতির অপরূপ হাতছানি চারদিকে। নয়নাভিরাম দৃশ্যগুলোর সাথে নিজের ছবি রাখতে কার না মন চায়? টিলা আর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পিকনিকে এসে আনন্দ প্রকাশ করে সবাই। ক্যামেরায় স্মৃতিগুলো ফ্রেমে বন্দি করে রাখার চেষ্টাও ছিল চোখে পড়ার মতো। চোখে পড়ার মতো এর স্থাবর-অস্থাবর স্থাপত্য নিদর্শনসমূহ। স্থাবর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে-বিহার, কেন্দ্রীয় মন্দির, উন্মুক্ত অঙ্গন এবং অস্থাবর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের মধ্যে-পোড়ামাটির ফলক, প্রস্তর ভাস্কর্য, চুন-বালি সমন্বয়ে গঠিত মাথা, ধাতব মূর্তি, তাম্রশাসন ও শিলালিপি ইত্যাদি। রয়েছে পাহাড়পুর সংলগ্ন একটি জাদুঘর। ভিতরে ঢুকেই চোখ পড়ে বেলে পাথরের চামুন্ডা মূর্তি, লাল পাথরের দণ্ডায়মান শীতলা মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণুর খণ্ডাংশ, কৃষ্ণ পাথরের দণ্ডায়মান গণেশ, বেলে পাথরের কীর্তি মূর্তি, দুবলহাটির মহারাণীর তৈলচিত্র, হরগৌরীর ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের লক্ষ্মী নারায়নের ভগ্ন মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের উমা মূর্তি, বেলে পাথরের গৌরী মূর্তি, বেলে পাথরের বিষ্ণু মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের শিবলিঙ্গ, সূর্যমূর্তি ও মনসা মূর্তি। এ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নিমেষেই আগত পর্যটককে মুগ্ধ করে। আর এজন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকেই প্রতিদিন আসছেন হাজারো কৌতূহলী পর্যটক। পিকনিক স্পট হিসাবেও রয়েছে সুপরিচিতি। দুপুর ২টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জিয়াউল হক সরকারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় রবীন্দ্র সঙ্গীত দিয়ে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চলে গান, অভিনয়, ফানবক্সের মতো খেলা। এর সঙ্গে রানা স্যারের লালন সঙ্গীত আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। এ সময় নবীনদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তানভীর আহমদ, মশিহুর রহমান, বনভোজন কমিটির আহ্বায়ক ড. মুসতাক আহমেদ ও প্রভাষক মোজাম্মেল হোসেন বকুল। সব আয়োজন শেষ করে যখন গাড়িগুলো রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিল তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। কিন্তু তখনও কারোরই এতটুকু আনন্দের কমতি ছিল না। বনভোজনের পূর্ণ স্বাদই উপভোগ করেছে সবাই। তাই এমন আয়োজন যেন নিয়মিতই হয় তেমনটি প্রত্যাশা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।