ইংরেজিতে একটি প্রবাদ রয়েছে—‘কোনো একটি জিনিসকে সাত বছর রেখে দাও এবং সেটা পারলে অবশ্যই এর কোনো না কোনো ব্যবহার তুমি খুঁজে পাবে।’ ঠিক এমন একটি প্রবাদের মাধ্যমেই টুইটারের জন্মদিনটিকে স্মরণ করেছে অনেকেই। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তম মাইক্রোব্লগিং এই সাইটটি এবারে সাত বছর পূর্ণ করে পা রেখেছে আট বছরে। ২০০৬ সালের ২১ মার্চ ছোট্ট একটি টুইটের মাধ্যমে যে টুইটারের যাত্রা শুরু, তাই আজ সারা বিশ্বের ২০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে যুক্ত করে রেখেছে একটি নেটওয়ার্কে। সারা বিশ্বের মানুষ মাত্র ১৪০ শব্দের টুইট দিয়েই নিজেদের প্রকাশ করে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
২০০৬ সালের ২১ মার্চ টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডোরসি প্রথম যে টুইটটি করেন, তাতে লেখা ছিল, ‘just setting up my twttr’। সেই একটি টুইটের পরেই শুরু হয়ে যায় টুইটারের অ্যাকাউন্ট খোলার হিড়িক। শুরুতেই এটি সেলিব্রেটিদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভে সমর্থ হয়। তবে দ্রুতই এর জনপ্রিয়তার মাত্রা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। টুইটার সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের এবং মজার মজার কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
প্রথম টুইট করেন টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডোরসি। তার করা টুইট ছিল ‘just setting up my twttr’।
টুইটারের বর্তমান ব্যবহারকারীর সংখ্যা পেরিয়ে গেছে ২০০ মিলিয়ন। আর ব্যবহারকারীদের মধ্যে যেমন রয়েছে সাধারণ মানুষ, তেমনি রয়েছে অভিনেতা, অভিনেত্রী, সেলিব্রেটি, ক্রীড়া ব্যক্তিত্বসহ সব ধরনের মানুষ।
এখনকার হিসেবে প্রতি সেকেন্ডে টুইট হয়ে থাকে প্রায় ৪৬০০টি। সেই হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বা ৪০ কোটি টুইট করা হয়।
২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০০৭ সালে টুইটারে যুক্ত হয় ‘রিটুইট’ এবং ‘হ্যাশট্যাগ’ ফিচার। ফলে কোনো একটি পছন্দের টুইটকে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ‘হ্যাশট্যাগ’র মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক টুইট করার প্রবণতা শুরু হয়।
২০০৮ সালে প্রথম জাপানের অফিশিয়াল টুইটার সার্ভিস চালু হয়।
টুইটারে সর্বোচ্চ ফলোয়ার বা অনুসারী রয়েছে জাস্টিন বিবারের। তার অনুসারীর সংখ্যা ৩৬ মিলিয়ন।
সবচেয়ে বেশি অনুসরণকারী অ্যাকাউন্ট রয়েছে একটি সোস্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির। ‘হুটসুট’ নামের এই সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১.১ মিলিয়ন অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি টুইট করা হয়েছে যে অ্যাকাউন্ট থেকে সেই অ্যাকাউন্টটি জাপানের একটি মেয়ের। এই অ্যাকাউন্টের নাম @Yougakduan_00। টুইটারের পক্ষ থেকে এই অ্যাকাউন্ট বাতিল করার আগ পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৬ মিলিয়নেরও বেশি টুইট করা হয়েছে।
কোনো ব্র্যান্ডের বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি অনুসরণকারী রয়েছে ইউটিউবের। টুইটারে ইউটিউবের অনুসরণকারী রয়েছে ২৫ মিলিয়নেরও বেশি।
টুইটারের পক্ষ থেকে যেসব অ্যাকাউন্টকে সন্দেহাতীত হিসেবে সনদ প্রদান করা হয়েছে এবং তাদেরকে ‘ব্লু ব্যাজ’ প্রদান করা হয়েছে, এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৪৭ হাজারেরও বেশি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, এই ৪৭ হাজার অ্যাকাউন্টের মধ্যে স্থান হয়নি টুইটারের সিইও ডিক কস্টোলোর অ্যাকাউন্টের।
টুইটারের লোগো হিসেবে যে পাখিকে ব্যবহার করা হয়, তার নাম ‘ল্যারি’। বোস্টন সেলটিকের কিংবদন্তী বাস্কেটবল খেলোয়াড় ল্যারি বার্ডের নাম অনুযায়ী টুইটারের এই পাখির নাম রাখা হয়েছে।
টুইটারের প্রথম এক বিলিয়ন টুইট পাঠাতে সময় লেগেছে তিন বছর, দুই মাস এবং এক দিন। এখন অবশ্য প্রতি আড়াই দিনেই এক কোটি টুইট করা হয়ে থাকে।
যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি মোবাইলে টুইটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে ৬০ শতাংশ মানুষ মোবাইলে টুইটার ব্যবহার করে থাকে। সেখানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ মোবাইলে টুইটার ব্যবহার করে।
‘রিটুইট’ ফিচারটি প্রথম চালু হয় টুইটার চালু হওয়ারও তিন বছর পরে, ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রিটুইট হওয়া টুইট ছিল দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্বাচিত হওয়ার পরের টুইটটি। এতে লেখা ছিল ‘Four more years’। ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর ওবামার করা এই টুইটটি ৮ লাখেরও বেশিবার রিটুইট করা হয়েছে।
২০১২ সালের ২৫ মার্চ বিশ্বখ্যাত চিত্রপরিচালক এবং অভিযাত্রী জেমস ক্যামেরন একটি টুইট করেন বিশ্বের গভীরতম স্থান প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ থেকে।
২০১২ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের ২৮টি ভাষায় টুইটারের সংস্করণ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আরবি, ফারসি, উর্দু এবং হিব্রু ভাষাও রয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে তৈরি হয় তাহরির স্কয়ার সম্পর্কিত হ্যাশট্যাগ। মিশরে যে গণজোয়ার তৈরি হয়, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে টুইটার। এক সময়ে মিশর সরকার দেশটির ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে সেখানে মোবাইলের মাধ্যমেও টুইটারের সার্ভিস চালু ছিল।
