শিশু খুনের ঘটনা বেড়েছে

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২২:০৪
‘বাংলাদেশের শিশু পরিস্থিতি-২০১২ সংবাদপত্রের পাতা থেকে’ গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১২ সালে শিশু খুনের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। মোট ৪১২টি সংবাদ থেকে ৪১৪ জন শিশু খুন হওয়ার তথ্য জানা যায়। ২০১১ এর তুলনায় এই সংখ্যা ৮০ জন বেশি। খুনের কারণ হিসেবে রয়েছে পারিবারিক কলহ, মুক্তিপণ না পাওয়া, সন্ত্রাস, বন্ধুর সাথে শত্রুতা, ডাকাতি, প্রেমঘটিত ব্যাপার, বাবা-মায়ের পরকীয়া, ধর্ষণ, যৌতুক এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হামলা। এছাড়া খুনের চেষ্টা করা হয়েছে আরো ৪৬ জন শিশুকে। সংবাদপত্রে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে শিশুর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই-সংবাদের সংখ্যাই কমেছে। ২০১২ সালে প্রকাশিত ইতিবাচক সংবাদের সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৭২টি, পক্ষান্তরে ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ২৪৪টি। ২০১২ সালে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দুই হাজার ৬৭৭টি, ২০১১ সালে তা ছিল দুই হাজার ৮৬২টি। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্চে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ২০১২ সালের শিশু পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আয়োজক সংগঠনের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুল্লা আল মামুন। সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন এর কোঅর্ডিনেটর শাহানা হুদা রঞ্জনা ও শামীম ইমাম। শিশুদের বেশি সংবাদ প্রচারিত হওয়া প্রথম সারির ছয়টি সংবাদপত্রের শিশুদের সংবাদ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আবদুল্লা আল মামুন বলেন, ২০১২ সালে শিশু ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশিত হয় মোট ১৫৫টি, যার মধ্যে মারা যায় ১২ জন শিশু, গুরুতর আহত হয় ১৩৯ জন শিশু। উল্লেখযোগ্য শিশু স্কুলে যাওয়ার পথে এবং শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে নিয়মিত যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুদের ও আচমকা বিশেষ সুযোগে ধর্ষণের ঘটনাগুলো বেশি ঘটেছে। তবে ২০১১ সালে ১৯১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। গতবছর অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ২৬৫ জন শিশুকে অপহরণ করার কথা জানা গেছে। এদের মধ্যে অপহরণের পর খুন করা হয়েছে ১৫ জনকে। আত্মহত্যার ১৬২টি সংবাদ থেকে ১৬৫ জন শিশু আত্মহত্যার কথা জানা গেছে। এরমধ্যে ২৩ জন প্রেমজনিত কারণে আত্মহত্যা করেছে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৯৮ জন এবং সড়ক দুর্ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে ২৮৯টি। এতে নিহত হয়েছে ৩৬৩ জন শিশু। অপরাধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শিশুদের জড়িত থাকার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ৩৮টি। হারিয়ে গেছে ৯১ জন শিশু। সেবাদানকারীর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলায় মারা গেছে ১০১ জন শিশু।