সাতক্ষীরায় সংখ্যালঘু পরিবারের ৩ সদস্যকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২২:৩০
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক সংখ্যালঘু পরিবারের তিন সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার ভুরুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশংকাজনক। তারা হলেন দেবেন্দ্রনাথ মন্ডলের স্ত্রী গীতারানী, ছেলে বিশ্বজিত্ ও মেয়ে অর্পনা রানী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শ্যামনগর থানার ওসি আহসান হাবিব জানান, দেবেন্দ্রনাথ মন্ডল রাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে তার স্ত্রী গীতারানী, ছেলে বিশ্বজিত্ ও মেয়ে অর্পনা রানীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে গীতারানীর একটি কা কাটা পড়ে। ঘাড়ে ও হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। বিশ্বজিতের চারটি আঙ্গুল কাটা পড়ে। তার পিঠে ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। মেয়ে অর্পনার ঘাড়ে, বুকে, পিঠে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। দেবেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০০৫ সালে তার ছেলে মৃণালকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তার অপর ছেলে হেমাঙ্গ মন্ডল বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলায় সাক্ষী ছিলো তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়েসহ ১০ জন। বুধবার এ মামলায় সাক্ষ্যের দিন ছিল। সাক্ষীরা যাতে সাক্ষ্য দিতে না পারে সে জন্য তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা হামলা করে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। এছাড়া ওই মামলার বাদী হেমাঙ্গ নিখোঁজ রয়েছে বলেও জানান দেবেন্দ্রনাথ মন্ডল।