ইসলামী ব ই প রি চি তি

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫১
নাম:খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ শিক্ষা ও সমাজচিন্তা লেখক: ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রকাশনায়:বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রথম প্রকাশ: ডিসেম্বর ২০১২ প্রচ্ছদ: ভদ্রেশু রীটা মুদ্রক: এশিয়াটিক সিভিল মিলিটারী প্রেস মূল্য: ৩০০/- খানবাহাদুর আহছানউল্লাহর কর্মজীবন, তার আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশব্যাপী সমাজকল্যাণমূলক কার্মকাণ্ড সমকালীন বাঙালি সমাজ, বিশেষ করে মুসলমান সমাজকে প্রভাবিত করেছে। ব্রিটিশ সরকার তার স্বীকৃতি দেয় খানবাহাদুর উপাধি। বড় বড় বক্তব্য-বক্তৃতা না দিয়ে তিনি বড় বড় কাজ করে দেখাতে চাইতেন এবং বলতেন, সাফল্যের একটিই পথ, কর্মের পথ। কর্মের পথকে আদর্শ করে তিনি স্থাপন করেছেন ‘আহছানিয়া মিশন’, সমাজসেবা যার প্রথম লক্ষ্য। আমরা আনন্দিত যে, ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ খানবাহাদুর আহছানউল্লাহর জীবনকথা অতি দক্ষতার সঙ্গে তার গবেষণায় তুলে ধরেছেন। বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রিক অবস্থান তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাবদর্শন, নৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল উনিশ শতকে ও বিশ শতকের প্রথমার্ধে। ঐ সময় যেসব চিন্তানায়ক, কর্মবীর ও সাংস্কৃতিক কর্মী তাদের মেধা ও সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে একটি মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীল সমাজ ও নৈতিক জীবনাদর্শ নির্মাণ করার ব্রত নিয়েছিলেন খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ তাদের অন্যতম। অবিভক্ত ভারতবর্ষের ব্রিটিশ রাজ্যের শেষ প্রান্তিকে আসাম ও বাংলার শিক্ষা বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে এতদাঞ্চলের জনশিক্ষা বিস্তার এবং একটি সবল জনশক্তি ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন সমাজ গঠনে তার ছিল নিরন্তর প্রয়াস। একেজন শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তিনি পূর্ব বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ করেছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক সমস্যার কারণে মুসলমান সমাজের পশ্চাত্পদতা। সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি বজায় রাখার উপায় তিনি শনাক্ত করেছেন এবং শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন সামাজিক শক্তি ও সংহতি। তার লেখালেখি হতে স্পষ্ট ধরা পড়ে যে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে সংহতির সেতু নির্মাণের একমাত্র উপায় শিক্ষার প্রসার। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার প্রসার গড়ে তুলে তিনি তার আদর্শের ভিত্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। সাবেক এনবিআর-এর চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ এসব দিকও আলোচনায় নিয়ে এসেছেন বিস্তারিতভাবে। মোহাম্মদ আবদুল মজিদের গবেষণায় আমরা বিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকে এদেশের শিক্ষা ও সমাজজীবনে খান বাহাদুরের উজ্জ্বল উপস্থিতি এবং গঠনমূলক ভূমিকার মৌলিক বেশ কিছু তথ্য-উপাত্তের সন্ধান পাই। বিশেষ করে ১৯১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুমোদনের পর্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এতদসংক্রান্ত দুষ্প্রাপ্য দলিল-দস্তাবেজ উদ্ধার ও বিশ্লেষণ এই গবেষণাকর্মের একটি মৌলিক অর্জন বলে আমরা মনে করি। আমাদের বিশ্বাস, গ্রন্থটির মাধ্যমে উনিশ ও বিশ শতকে বাঙালির শিক্ষা ও সমাজ, পরিবেশ-পরিস্থিতি, প্রক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অধিকতর অনুসন্ধান, গবেষণা ও পর্যালোচনার আগ্রহ ও সুযোগ সৃষ্টি করবে। আমরা গ্রন্থটির বহুল প্রচার প্রত্যাশা করছি। —হোসাইন আল খালদুন।