পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও পার্বত্যাঞ্চলগুলোতে ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেনা, আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য, পুলিশ এবং জঙ্গি-সন্ত্রাসীও রয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা দেশটির সর্বোচ্চ আদালতকে মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে। এই ৫ বছরে ওই অঞ্চলগুলোতে ২৩৫টি আত্মঘাতী হামলা, ৯ হাজার ২৫৭টি রকেট হামলা, ৪ হাজার ২৫৬টি বোমা হামলার ঘটনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা হামলা-অভিযানে এই বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে বলেও গোয়েন্দা সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ৩ সদস্যের বেঞ্চে দাখিল করেছে। এই বেঞ্চের প্রধান হিসেবে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ইফতেখার মাহমুদ চৌধুরী। একটি পিটিশনের শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে। ৫ বছরে এসব হামলায় ৫ হাজার ১৫২ জন বেসামরিক মানুষ, ১ হাজার ৪৮৯ জন সেনা, ৬৭৫ জন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ১ হাজার ৭১৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই সময়ে লস্কর গোত্রের ২৪৩ জন নিহত ও ২৭৫ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি এসব হামলায় ৯৯৫টি স্কুল ও ৩৫টি কলেজও ধ্বংস হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, সন্ত্রাস ও জঙ্গি তত্পরতা বন্ধে নিরাপত্তা বাহিনী ওই সময়ে ৪৭৫টি বড় ধরনের অভিযান ও ১৩৫টি ছোট পরিসরের অভিযান চালিয়েছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীর খোঁজে ৬ হাজার অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
