নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান জেসি রাইডার ক্রাইস্টচার্চে গত বুধবার বিকালে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দু্ইবার মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে কোমায় চলে গেছেন। ভয়াবহ এই হামলায় মাথার খুলিতে চিড় ধরায় তার অবস্থা এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাইডারকে এখন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
ঘরোয়া ওয়ানডে টুর্নামেন্টে ওয়েলিংটনের পক্ষে খেলার জন্য দলের সঙ্গে রাইডার ক্রাইস্টচার্চে অবস্থান করছিলেন। মৌসুমের শেষ ম্যাচে কেন্টারবুরির কাছে হেরে যাওয়ার পরে সতীর্থ এবং বন্ধুদের সঙ্গে দলবেধে এই বাহাতি ব্যাটসম্যান ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। ক্রাইস্টচার্চের উপকূলবর্তী শহর মেরিভেইলের আইকম্যান’স বারের বাইরে বুধবার রাত সাড়ে বারোটায় প্রথম আক্রমণের ঘটনাটি ঘটে। সিনিয়র গোয়েন্দা সার্জেন্ট ব্রায়ান আর্চার পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেন এভাবে, ‘আইকম্যান’স বারের বাইরে জেসি (রাইডার) এবং কয়েকজন লোকের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। তারা সংখ্যায় ছিল দুইজনের বেশি। তবে অল্পতেই সেটি শেষ হয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই রাইডার এবং ঐ লোকগুলো রাস্তা পেরিয়ে ম্যাকডোনাল্ডসের একটি দোকানের দিকে এগোয়। যেখানে রাইডারের সতীর্থরা খাবার কেনার জন্য অবস্থান করছিল। এখানেই দ্বিতীয়বার কথাকাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে ম্যাকডোনাল্ডসের গাড়ি বারান্দায় রাইডার হামলার শিকার হন। প্রথম ঘটনাটিতে যারা জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে দ্বিতীয়বারেও সনাক্ত করা গেছে।’
হামলার পরে রাইডার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সেখান থেকে সরাসরি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর্চার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে জেসির উপরে মারাত্মকভাবে হামলা করা হয়েছে এবং তার ফলাফলস্বরূপ সে মাথায় বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। রাত ১২.৪৪ মিনিটে পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয় এবং তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তারপর থেকে সে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেই অবস্থান করছে।’
হাসপাতালের ডাক্তারদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মাথার পাশাপাশি রাইডার ফুসফুসেও বড় ধরনের আঘাত পেয়েছেন। এ ব্যাপারে আর্চার বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে রাইডারের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বেশ কয়েকটি গুরুতর আঘাতের ফলাফল স্বরূপ সে কোমায় চলে গেছে। তাকে এখনো বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু জানানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
পুলিশ সঠিক পথে আছে এমনটা দাবি করলেও কারা কি উদ্দেশ্যে এই হামলা করেছে সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নয় ক্রাইস্টচার্চ পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনী। আর্চার বলেন, ‘এই ঘটনায় কারা জড়িত সেটা আমরা এখনো সনাক্ত করতে পারিনি। তবে আমরা সঠিক পথেই আছি। আমরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি।’ এ ঘটনার পেছনে অ্যালকোহলের কোন ভূমিকা আছে কিনা সে সম্পর্কে আর্চার বলেন, এখনো পর্যন্ত আমরা এমন কিছু পাইনি যা দেখে বোঝা যায় এর পেছনে অ্যালকোহলের কোন ভূমিকা আছে।’
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের তদন্তের স্বার্থে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান আর্চার। ম্যাকডোনাল্ডস এবং আইকম্যানসের ভিডিও ফুটেজও কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আক্রমণটা আমার কাছে খুবই ভয়ানক বলে মনে হয়েছে তাই অবশ্যই আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। আমি নিশ্চিত পুলিশ ঘটনার মূল কারণ খুঁজে বের করতে পারবে।’ রাইডারের প্রতি সহমর্মীতা জানিয়ে টুইট করেছেন তার জাতীয় দলের সতীর্থরা এবং প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইটও।
