কর্মচারী কল্যাণ তহবিল চিকিত্সা অনুদানে বয়ঃসীমা বাধা হয়ে থাকবে কেন?

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৪
সরকারি কর্মচারীদের যে কোনো ধরনের কঠিন রোগ-ব্যাধির অপরিহার্য উচ্চ ব্যয় নির্বাহে অসমর্থতায় বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে বলে আমরা জানি। আমি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক হিসাবে অবসর গ্রহণ করেছি এবং গত প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ডায়াবেটিক, হূদরোগ ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। প্রতিমাসে আমাদের প্রায় ২০ সহস্রাধিক টাকা উচ্চমূল্যের অষুধ নিয়মিত সেবন করতে হয়। কিছুদিন আগে রক্তনালীতে আমার চারটি ব্লক ধরা পড়ায় এনজিওগ্রামের মাধ্যমে তিনটিতে রিং পরানো হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। কিছুদিন আগে একটি আবেদন নিয়ে গিয়েছিলাম কিছু আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির আশায় বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয় (কল্যাণ তহবিল), ১ম-১২ তলা সরকারি অফিস ভবন (৩য় তলা), সেগুনবাগিচায়। কিন্তু ৬৭ বছর বয়স্ক কোনো ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয় না বলে আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু ৬৮ বছর। ফলে ৭০ ঊর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। আয়ু বৃদ্ধি পেলেও খাদ্যবস্তুতে ব্যবসায়ীদের নানান ধরনের ভেজাল ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানোর ফলে রোগ-ব্যাধির আক্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে অধিক। বয়স যত বাড়তে থাকে মানুষের শারীরিক, মানসিক এবং স্নায়বিক জটিলতায় আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে যায় দুর্দমনীয়ভাবে। এমনিতে আমাদের দেশে জনসংখ্যা ঘনত্বের কারণে জীবন চলার ব্যয় বেড়েছে। ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবেলা করতে ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে গিয়ে পরিবারের প্রায় সবাইকেই অর্থ রোজগারের ধান্দায় থাকতে হয়। ফলে পরিবারে বাড়তি লোকের অভাবে বয়স্কদের সেবাদানের মতো কোনো সদস্য থাকে না, থাকলেও তাদের জন্য সব ব্যবস্থার মধ্যে বয়স্কদের জন্য প্রয়োজনমতো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাহলে ৬৭ বছরের ওপরে যাদের বয়স হয়ে গেছে তাদের উপায় কী? এ অবস্থায়, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ তহবিল থেকে বয়স নির্বিশেষে দরিদ্র, নি:স্ব ও অসহায় কর্মচারীদের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহনের জন্য অর্থ মঞ্জুরি অবশ্যই বিবেচনার দাবি রাখে এবং তা মানবিকতার স্বার্থেই। এক্ষেত্রে একটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে, এই অর্থ অবসরপ্রাপ্তদের সবাই চায় না। কিন্তু কল্যাণ তহবিলে চাকরিকালে অর্থ জমা দেয়া প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাধ্যতামূলক এবং তাঁর আন্তরিকতার সঙ্গেই তাঁদের বেতন থেকে এ অর্থ কর্তন করে থাকেন। সুতরাং বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে সনির্বন্ধ আবেদন জানাচ্ছি। একেএম জহিরুল হক, ১৪৬/সি, নওমহল, ময়মনসিংহ।