দিনাজপুর বিজিবি সেক্টরের অধীনে ৩৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় গত বছর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী-বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছে।
দিনাজপুর বিজিবি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ ইমদাদুল হক পিএসসি জানান, গত বছর দিনাজপুর সেক্টরের অধীনে ৩৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ৪টি ব্যাটালিয়নের অপর পাশে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও ১৭ জন আহত হন। বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটলেই বিজিবি সদস্যদের পক্ষ হতে বিএসএফ সদস্যদের নিকট কড়া প্রতিবাদ পত্র প্রেরণ করা হয়। এছাড়াও তাত্ক্ষণিক কোম্পানি পর্যায়ে এবং পর্যায়ক্রমে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক করে ঘটনার কৈফিয়তও তলব করা হয়ে থাকে। উত্তরে বিএসএফ সদস্যদের বক্তব্য বাংলাদেশি নাগরিকরা অবৈধভাবে ভারত সীমানায় তারকাটার বেড়া কেটে অনুপ্রবেশ এবং বিএসএফ’র সংকেত অমান্য করায় তাদের গুলিতে ওইসব নাগরিকেরা আহত এবং নিহত হয়। এজন্য সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণকে সন্ধ্যার পর ভারত সীমানায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, তারকাটার বেড়া কাটা থেকে বিরত থাকাসহ চোরাচালান ও মাদক পরিবহন পরিহার করতে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গত বছর দেড়শত বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকের পর সীমান্তবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পূর্বের তুলনায় এখন অবৈধ অনুপ্রবেশ অনেকাংশই হ্রাস পেয়েছে।
গত বছর ৩ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেটরা গ্রামের মিজানুর রহমান (৩০) ও চৌঠা গ্রামের সাইফুল ইসলাম (২৫), ৫ মার্চ হাকিমপুর উপজেলার মঙ্গলা গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৪০) এবং একই উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমান (২৭), ১৮ মে ফুলবাড়ী উপজেলার অচিন্তপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (২৫) ও ২৪ মে বিরামপুর উপজেলার বিনাইল গ্রামের নাদের আলী (২৫), ১৪ জুন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নলছড়ি গ্রামের ফারুক হোসেন (৩৪) এবং ২২ আগস্ট ফুলবাড়ী উপজেলার উথরাইল গ্রামের আবুল কাশেম (২৩), ১ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার রায়দেবপুর গ্রামের হাজিরুল ইসলাম (৪২), পীরগঞ্জ উপজেলার ভাতুরি গ্রামের হোসেন আলী (৩৫), বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আব্দুল খালেক (২৮), ১৯ অক্টোবর বিরামপুর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৩০), ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের গনেশ চন্দ্র রায় (৩২) বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হন।
গত বছর ১৬ মার্চ বিরামপুর উপজেলার জোতবানী গ্রামের আব্দুল জলিল (২৫), নুরুল ইসলাম (৩২) ও আনোয়ার হোসেন (৪০), ১৫ এপ্রিল ফুলবাড়ী উপজেলার আয়েরা গ্রামের নজরুল ইসলাম (২৮), ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার শিধল গ্রামের আইনুল ইসলাম (৩৪), ৬ জুলাই একই উপজেলার রুবপুর গ্রামের হালিমা খাতুন (২৭) ও ফুলবাড়ী উপজেলার বালুপাড়া গ্রামের দারুল ইসলাম (৩৫), পীরগঞ্জ উপজেলার রামডুবি গ্রামের সাদেক আলী (৪৮) ও মঞ্জুরুল ইসলাম (৩২), ২৫ সেপ্টেম্বর বিরল উপজেলার ডুংডুঙ্গি গ্রামের হারুন (১৮) ও সবুর (২২), ১৭ অক্টোবর একই উপজেলার পরমেশ্বর গ্রামের কবিরুল (২৫), ১৮ অক্টোবর এনায়েতপুর গ্রামের সকু (৪২) ও জহুরুল (২০), ২০ অক্টোবর বোচাগঞ্জ উপজেলার মালতি গ্রামের আমজাদ (৪২), ৯ ডিসেম্বর কাহারোল উপজেলার আঙ্গারিপাড়া গ্রামের আশকর আলী (২৫) এবং ২৬ ডিসেম্বর হাকিমপুর উপজেলার বাগমারা গ্রামের আলমগীর হোসেন (২৫) আহত হয়।
