উত্পাদক ও ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় চাই কৃষিপণ্যের মূল্য কমিশন

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২১:২০
বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণে একটি কাঠামোগত উন্নত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, যা উত্পাদক ও ভোক্তা শ্রেণির স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালনে সমর্থ হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে ‘কৃষিপণ্যের মূল্য কমিশন’ গঠন ও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন কৃষি সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা। গতকাল ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সেমিনার কক্ষে কর্মজীবী নারী আয়োজিত ‘কৃষিপণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন’ শীর্ষক এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ, পল্ল¬ী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিপণ্যের জনমূল্য কমিশন এবং সভাপতি জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি শিরীন আখতার। প্রধান অতিথি হাসানুল হক ইনু বলেন, নতুন মূল্য কমিশন গঠনে আমি সংসদে বিল উপস্থাপন করবো এবং সমর্থন করবো। আমাদের দেশের প্রধান চালিকা শক্তি হলো কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষ। তাদের বাইরে দেশে কোনো ভিআইপি নেই। সরকার এবং কৃষক মিলে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ বিরোধী দল জনগণের কোনো সমস্যা সরকারের কাছে তুলে ধরে না। সরকারকে ভর্তুকি প্রদান, গুদাম নির্মাণ ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে বাধ্য করতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা সবাই মিলে কাজ করবো। কৃষকের স্বার্থই দেশের স্বার্থ—এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। তিনি ভারত-পাকিস্তানে মূল্য কমিশন থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশেও মূল্য কমিশন গঠন করতে হবে। শিরিন আখতার বলেন, কৃষকের সাথে সাথে নারী কৃষকদেরও শ্রমের মূল্যায়ন জরুরি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জীবনানন্দ জয়ন্ত। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কৃষক নেতৃবৃন্দ কৃষি মূল্য কমিশন গঠন, ভর্তুকি নিয়ে কথা বলেন। জীবনানন্দ জয়ন্ত বলেন, আমাদের দেশের কৃষকরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে দেশ রেকর্ড করতে পেরেছে। দেশের অর্থ খরচ করে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে না। কিন্তু কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো পদক্ষেপ দেয়া হচ্ছে না। কৃষকের উত্পাদন ব্যয় মিটিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকের এক মণ ধান উত্পাদন করতে ৮০০ টাকা খরচ হয় আর সরকার তাকে দেয় ৪০০ টাকা। কর্মজীবী নারীর গবেষক ও সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, কৃষকের মূল্যপ্রাপ্তিতে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হচ্ছে। এদিকে সরকারের দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, স্থানীয়ভাবে কৃষিদ্রব্য হিমায়িত করার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। যার ভুক্তভোগী একমাত্র কৃষক। এডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ বলেন, ২০১০ সালে জাতীয় কৃষি নীতির খসড়া করা হয়েছে যা আজো খসড়া হয়েই রয়ে গেছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কৃষি নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা সরকারের সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করবো। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, অতি শীঘ্রই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। কিন্তু আমি বলছি আমরা এখনই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়ে গেছি। আমাদের দেশকে আরো এগিয়ে নিতে হলে প্রান্তিক মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার দিতে হবে এবং অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে হবে। বাজেটসহ কিছু কিছু পরিকল্পনায় সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ থাকলেও কৃষিক্ষেত্রে আরো যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কৃষকের অবস্থা পরিবর্তনে প্রথমত সংগঠন করে সংগঠিত হওয়া, দ্বিতীয়ত ফসল ধরে রাখতে গোলাঘর বা হিমাগারের ব্যবস্থা করা এবং তৃতীয়ত সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের শিল্পায়নের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।