গত ৪ বছরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২০২টি আইন চূড়ান্তভাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে নীতিমালা, কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনার সংখ্যা ৩৮টি। দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং অনুসমর্থন প্রস্তাবের সংখ্যা মোট ৯৯টি।
বর্তমান সরকারের চার বছরের সাফল্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে ১৭৯টি। বৈঠকে ১ হাজার ১৯১টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছে ১ হাজার ৮০টি। বাস্তবায়নের হার ৯০ দশমিক ৬৮ ভাগ।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১২১টি বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবের সংখ্যা ছিলো ৭৭০টি, যার মধ্যে ৭১২টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়াও উল্লে¬খিত সময়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৮টি বৈঠকে উপস্থাপিত ১৮০টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৩৭টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময় সচিব সভা হয়েছে ১১টি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ১১৫ এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির ৮০টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে মন্ত্রিসভা কমিটি/পরিষদ/ কমিশন গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে ৯৯টি। জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির মোট সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৭টি।
গত চার বছরে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের মধ্যে ছিলো যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক, রেলপথ ও সেতু বিভাগ নামে তিনটি বিভাগ গঠন এবং কার্যবণ্টন নির্ধারণ করা। পরবর্তীতে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং রেল বিভাগকে পুনর্গঠন করে রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন। একইভাবে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে যথাক্রমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নামে দুটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং কার্যবণ্টন নির্ধারণ করা হয়।
এ ছাড়াও খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে পুনর্গঠন করে যথাক্রমে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নামে দুটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। অন্যদিকে মিনিস্ট্রি অব ল’, জাস্টিস এন্ড পার্লামেন্টারী এ্যাফেয়ার্স’র অধীনে ল’ এন্ড জাস্টিস এবং লেজিসলেটিভ এন্ড পার্লামেন্টারী এ্যাফেয়ার্স ডিভিশন নামে দুটি বিভাগ, মিনিস্ট্রি অব ফাইন্যান্স’র অধীনে ব্যাংক এন্ড ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউট ডিভিশন গঠনসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিসংখ্যান বিভাগ গঠন করা হয়। বর্তমানে পরিসংখ্যান বিভাগের নাম পরিবর্তন করে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামকরণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র (নিকার) ১০৪তম বৈঠকে রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা নিয়ে রংপুর প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করা হয়। আর একটি সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলা, পটুয়াখালী জেলার রাঙাবালী, বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলাধীন তালতলী থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করা হয়— চরফ্যাশনে দক্ষিণ আইচা থানা, শশীভূষণ থানা এবং গফরগাঁও থানাধীন পাগলাকে। একইভাবে গাজীপুর জেলাকেও বিশেষ ক্যাটাগরি জেলা হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল শিরোনামে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল মন্ত্রিপরিষদ সভা অনুমোদন করে।
