চার বছরেও চালু হয়নি দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২১:২৮
দিনাজপুর জেলায় একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলস্ লি. বন্ধ হয়ে যাওয়ার ৪ বছরেও চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। চালু না করার ফলে অযত্নে ও অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ৫০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ও ভবনগুলো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচনী জনসভায় এই মিলটিকে চালুর ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনপ্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অথচ মিলটি চালু হলে কর্মসংস্থান হবে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিকের। পাশাপাশি সরকার পাবে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। বৃদ্ধি পাবে এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য। মিলটিতে উত্পাদিত সুতা দেশে কাপড় উত্পাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলস্ লি.-এর সূত্রমতে, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তত্কালীন সরকার দিনাজপুর সদর উপজেলার সদরপুরে ১৯৭৫ সালে ১লা মার্চ ৩৬ একর ৫৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করে দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলস্ লিঃ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। মিলটিতে পরীক্ষামূলক উত্পাদন শুরু হয় ১৯৭৮ সালের ১লা নভেম্বর। সে সময় মিলের মূলধন ছিল ১৮ কোটি টাকা ও ভারতীয় ২৫ হাজার ৫৬ টাকু বিশিষ্ট মেশিন। মিলটিতে নিয়োগ পায় ২১ জন কর্মকর্তা, ১৪০ কর্মচারী ও ১ হাজার ৩৫০ জন শ্রমিক। পরবর্তী সময়ে মিলটিতে উত্পাদন আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ৩ হাজার ৮৪০টি চায়না টাকু সংযুক্ত করা হয়। ১৯৮০ সালের ১৬ অক্টোবর মিলটি বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদনে যায়। সে সময় মিলটি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেও প্রতি বছর ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করতো। ১৯৯৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিলটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। ২০০৩ সালে ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে মিলটির উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে শ্রমিকদের দাবির মুখে ২০০৬ সালে মিলটিতে পুনরায় উত্পাদন শুরু করা হয়। ২০০৮ সালের ২৯ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মিলটিকে বন্ধ করে দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বেকার হয়ে পড়ে ১৩৫০ জন শ্রমিক। টেক্সটাইল মিলটির অভ্যন্তরে ৪টি বিশাল গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ২টি গুদামকে প্রতিটি বার্ষিক ১০ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। মিলের অভ্যন্তরে ১টি সুতা উত্পাদন কারখানা, ৩টি স্টাফ কোয়ার্টার, ১টি সিনিয়র স্টাফ অফিসার্স কোয়ার্টার, ২টি স্টাফ কোয়ার্টার, ১টি জুনিয়র স্টাফ কোয়ার্টার, একটি মেডিক্যাল সেন্টার (হাসপাতাল), একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ রয়েছে। বর্তমানে এগুলো সবই বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন যাবত্ মেরামত না করায় ও ব্যবহার না হওয়ায় ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ দিয়ে মেশিন ঘরে পানি পড়ে মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পলিথিন মুড়িয়ে এগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, মিলটিকে পুনরায় চালু করতে হলে ৭০ শতাংশ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে নতুন মেশিন স্থাপন করতে হবে। এ ব্যাপারে মিলের উপ-মহাব্যবস্থাপক জানান, মিলটি পুনরায় চালুর ব্যাপারে বিটিএমসিতে প্রস্তাবনা পাঠানো হলে বিটিএমসি উক্ত প্রস্তাবনাটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। বর্তমানে মিলটি চালু করতে হলে নতুন মেশিন সংযোগসহ আরও ২৪ কোটি টাকার প্রয়োজন। কারণ পুরনো সব মেশিনই নষ্ট হয়ে গেছে।