সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র্যাবে প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে কোস্টাল ব্যাটালিয়ন। সাতক্ষীরার রায়মঙ্গল পয়েন্ট থেকে সাগর উপকূলীয় কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১১শ’ কিলোমিটার সাগর, নদী ও বনাঞ্চল এলাকায় এই কোস্টাল ব্যাটালিয়ন নিরাপত্তা দিবে।
এ ব্যাপারে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান বলেন, কোস্টাল ব্যাটালিয়ন চালু হলে সুন্দরবন ও সাগর উপকূলীয় এলাকায় ডাকাতির প্রবণতা অনেক কমে যাবে। এই এলাকায় চোরাকারবারও প্রতিরোধ করা সম্ভব এই কোস্টাল ব্যাটালিয়ন দিয়ে। কোস্টাল ব্যাটালিয়ন চালু করার একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। হেলিকপ্টার, স্যাটেলাইট ফোন ও হাইফ্রিকোয়েন্সি রেডিও লিংক থাকবে কোস্টাল ব্যাটালিয়নে।
র্যাব সদর দফতর সূত্র জানায়, সারাদেশে র্যাবের ১২ টি ব্যাটালিয়নে প্রায় ৯ হাজার সদস্য কর্মরত। এর পাশাপাশি রংপুর ও ময়মনসিংহে আরো দুইটি ব্যাটালিয়ন চালুর বিষয় প্রক্রিয়াধীন। দেশের সুন্দরবন ও উপকূল এলাকাগুলো র্যাব-৬, র্যাব-৭, র্যাব-৮ ও র্যাব-১১ নিয়ন্ত্রণ করে। নদী, সাগর ও বনাঞ্চল হওয়ার কারণে এসব এলাকায় সমতল এলাকার মতো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। এই এলাকায় বিশেষ করে নৌকা, ট্রলার অথবা স্পিডবোট ব্যবহার করতে হয়। এসব এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাবে অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। র্যাব সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, গত এক বছরে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকার নদী ও সাগর উপকূলে জেলেদের অর্ধসহস্র মাছধরা নৌকা ও ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতদের হাতে নিহত হয়েছেন ৩০ জন জেলে।
র্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, র্যাবের অন্য ব্যাটালিয়নের মতো প্রায় ৮শ’ সদস্য থাকবে এই কোস্টাল ব্যাটালিয়নে। কোস্টাল ব্যাটালিয়ন চালু করা যায় কি-না, এ ব্যাপারে সুন্দরবনের দুবলার চর ও হিরণ পয়েন্টে র্যাবের দুইটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ঐ দুইটি অস্থায়ী ক্যাম্প বর্তমানে র্যাব-৬ এর নিয়ন্ত্রণে। এই দুইটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে সুন্দরবন এলাকায় টহল দেয়া হচ্ছে। কোস্টাল ব্যাটালিয়ন চালু হলে সুন্দরবন, নদী ও সাগর উপকূল এলাকায় র্যাব টহল দিতে পারবে। ঐ কর্মকর্তা জানান, গত জানুয়ারিতে র্যাবে দুইটি হেলিকপ্টার যুক্ত হয়েছে। কোস্টাল ব্যাটালিয়নে নদী ও সাগরপথে এই দুইটি হেলিকপ্টার দিয়েও অভিযান চালানো হবে। কোস্টাল ব্যাটালিয়নে প্রযুক্তিগত দিক থেকে স্যাটেলাইট ফোন ও হাইফ্রিকোয়েন্সি রেডিও লিংক (এইচএফ) থাকবে। উপকূল ও সুন্দরবন এলাকায় ডিউটি করতে হলে এসব প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি অত্যাধুনিক জলযান থাকবে কোস্টাল ব্যাটালিয়নে।
