তালায় কলেজ ছাত্রীর আঙ্গুল কেটে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২২:৪০
সাতক্ষীরার তালায় মায়ের উপর নির্যাতনে বাধা দেয়ায় প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু এক কলেজ ছাত্রীর হাতের দু’টি আঙুল কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রী এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তালা উপজেলার কুমিরা মহিলা কলেজের এইচএসসি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী স্বপ্না মল্লিক জানান, তার বাবা অসিত মল্লিক উপজেলার কাটাখালি গ্রামের একজন কৃষক। ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্তে তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী মোকছেদপুর গ্রামের পরিমল দাস তার বাবার কাছ থেকে চুক্তিপত্র করে এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা নেন। পরিমল দাস তিন বছরেও ওই টাকা শোধ করেননি। গত ২২ মার্চ পরিমল দাস তার পাওয়ার টিলার নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। এ সময় পরিমল দাসের কাছে পাওনা টাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে একপর্যায়ে পাওয়ার টিলার রেখে পরিমল দাস চলে যান। সন্ধ্যায় উপজেলার হাজরাপাড়া গ্রামের বিএনপি নামধারী নেতা আলাউদ্দিন মোড়ল ১৪/১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। আটককৃত পাওয়ার টিলার তার দোকান থেকে নেয়া ও এখনো কিস্তির টাকা বাকি আছে বলে তা নিয়ে যেতে চান। বাধা দেয়ায় তার মা ছায়া রানীকে সন্ত্রাসীরা মারপিট করতে থাকে। মাকে রক্ষায় এগিয়ে আসায় আলাউদ্দিন মোড়ল তার বাম হাতের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দুটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কেটে ফেলেন। পরে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন মোড়ল জানান, কিস্তির টাকা বাকি থাকায় পরিমল দাসের কথামত তিনি পাওয়ার টিলার ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। সেখানে পরিমল দাসের লোকজন অসিত দাসের বাড়িতে হামলা করে। এ হামলার সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নিকুঞ্জ বিহারী কুন্ডু জানান, এ ব্যাপারে আলাউদ্দিন মোড়লের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামি পলাতক রয়েছে।