চাকরির দাবিতে ইবিতে ভাংচুর চলছেই, প্রশাসন নির্বিকার

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২২:৪২
নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আবার খুললেও সেই নিয়োগ বাণিজ্যের জের কাটেনি এখনো। চাকরির দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করে ফায়দা হাসিল করতে চায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রলীগ নামধারী বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অফিস ভাংচুর করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে একাধিকবার ভিসি অফিসসহ অন্তত চারটি অফিসে ভাংচুর ও তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। গতকাল শনিবারও বহিরাগত সন্ত্রাসীদেরকে নিয়ে ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম সরকারের অভ্যর্থনা কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগ নামধারী বহিরাগতরা। এভাবে একের পর এক অরাজকতা চালানোর পরও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে আবারো ভিসিবিরোধী আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন। জানা যায়, সাবেক ভিসি, প্রো-ভিসির নিয়োগ বাণিজ্য ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জের ধরে দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ক্যাম্পাস খোলার এক মাসের মধ্যে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চাকরি প্রত্যাশীরা। গত ২৪ মার্চ চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগ নামধারী কিছু বহিরাগত ক্যাডার নিয়োগের দাবি নিয়ে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের সাথে দেখা করতে তার অফিসে যায়। অফিসে না থাকায় ভিসির কক্ষের দরজায় লাথি মারতে শুরু করে তারা। হৈ-চৈ করে ভিসির কনফারেন্স রুমে প্রবেশ করে চেয়ার টেবিল ছুঁড়ে ফেলে দেয়। পরে তারা প্রশাসন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমানের কক্ষে প্রবেশ করে দ্রুত চাকরি দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। ওইদিন বেলা ১১টায় চাকরি প্রত্যাশী এই গ্রুপটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদ ভবনে অবস্থিত ‘বি’ ইউনিট সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. ত. ম. লোকমান হাকিমের অফিসের তালা ভেঙ্গে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেয়। এসময় অপেক্ষামান তালিকা থেকে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে বের করে দেয় তারা। এরপর ২৫ মার্চ দুপুর ১টার দিকে ছাত্রলীগ ক্যাডার আশিকুর রহমান জাপানের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অফিসে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাংচুর করে। তাছাড়া সেসময় দায়িত্বরত অফিস সহকারী জালাল উদ্দিনের হাত ভেঙ্গে দেয় তারা। এ ব্যাপারে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে আশিকুর রহমান জাপান বলেন, ভর্তিতে অনিয়োমের অভিযোগ থাকায় আমরা ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা বললেও ভর্তি বন্ধ না রাখায় আমরা ভাংচুর করেছি। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগের পক্ষ থেকে ভিসি বরাবর একটি আবেদনপত্রও দেয়া হয়। সর্বশেষ গতকাল শনিবার আবারও ভিসি অফিসে ব্যাপক ভাংচুর চালায় তারা। এভাবে একের পর এক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলেও রহস্যজনক কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব রয়েছেন এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা চাকরি দিবেন বলে যাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই এখন সকাল-বিকাল তাদের বাসায় ভিড় জমাচ্ছেন হয় চাকরি দেয়ার জন্য না হয় টাকা ফেরত দেয়ার জন্য। এব্যাপারে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, “আমি উপরে মিটিং-এ থাকা অবস্থায় ভাংচুর চালানো হয়। তিনি বলেন, আমরা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছি না কথাটা ঠিক না। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ইবি থানার পুলিশ ঠিকমত তাদের দায়িত্ব পালন করছে বলে আমার মনে হয় না। বিগত ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল আমরা থানায় জিডি করেছি। তিনি বলেন, চাকরি দেয়ার জন্য কোন শূন্য পোস্ট আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা আগে যারা দায়িত্ব পালন করে গেছেন তারা এত বেশি নিয়োগ দিয়ে গেছেন যে অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখন বসার জায়গা না থাকায় তারা ক্যাম্পাসে এসে চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে বাড়ি চলে যায়। তিনি বলেন, যারা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইবি থানার ওসি গাজী রুহুল ইমাম ভাংচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক থানায় জিডি করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমরা এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরো বলেন, যাদের নেতৃত্বে ভাংচুর করা হচ্ছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমাদের সাথে থাকতে হবে।