পাকিস্তানকে ছাড়াই কাজ করবে আফগানিস্তান

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২০:৫২
তালেবানদের সাথে গত কয়েক মাস ধরে শান্তি আলোচনার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আফগান সরকার। যাতে যুক্তরাষ্ট্রেরও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে এ ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানকেই দায়ি করছে আফগানিস্তান। এবার তাই পাকিস্তানকে না নিয়ে নিজেদের মতো করে তালেবানদের সাথে আলোচনা করে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে কাবুল। এমন সিদ্ধান্তকে আফগান পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আফগানিস্তানে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাস বিরোধী লড়াই চালিয়ে গেলেও তালেবান জঙ্গি গোষ্ঠীকে পুরোপুরি দমন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনী। উল্টো এখনো বিভিন্ন স্থানে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে তারা। প্রতিনিয়ত বিদেশি সেনাদের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আফগান সৈন্য ও পুলিশকে। আত্মঘাতি বোমা ও ড্রোন হামলায় মারা পড়ছে নিরপরাধ বেসামরিক মানুষজন। এ অবস্থায় সংকটের মুখে দেশটির ভবিষ্যত্। একদিকে যেমন বিদেশি সৈন্যরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সেদেশে অবস্থান করতে পারে না। অন্যদিকে তেমনি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অস্থিতিশীল রেখে দায়িত্বহীনের মতো আফগান ভু-খন্ড ছেড়েও যেতে পারে না তারা। ২০১৪ সালের মধ্যে বিদেশি সৈন্যরা আফগানিস্তান ছেড়ে যাবার আগে দেশটিতে তাই স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় কারজাই সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র। এ কাজে সাথে নেয় প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক শক্তি পাকিস্তানকে। তালেবানদের সাথে বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কয়েক দফায় চলে শান্তি আলোচনা। সবশেষ পাকিস্তানের কারাগারে থাকা কিছু তালেবান নেতাদের মুক্তি দেয়ার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আলোচনায় প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছিলো আফগানিস্তান। তবে গত বুধবার আফগান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ লুদিন জানান, ইসলামাবাদের সাহায্য ছাড়াই এখন থেকে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মোকাবিলার চেষ্টা করবেন তারা। আফগান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ শুরু থেকেই তালেবানদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দেশকে স্থিতিশীল করার চেষ্টায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের সাথে জঙ্গি গ্রুপগুলোর দীর্ঘকালীন ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার কারণে ঐ কাজে পাকিস্তানের পরামর্শ ও উদ্যোগকে বেশ গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়েছে। তবে তাতে কোন লাভ হয়নি। বরং প্রতিবারই পাকিস্তান নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন আফগান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তালেবানদের সাথে যোগাযোগ করার নামে পাকিস্তান কারজাই সরকারের বিরোধীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে বলে জানান তিনি। জাবেদের প্রশ্ন, তাহলে কেন তালেবানরা কারজাই সরকারের সাথে সরাসরি কথা বলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবে। তাহলে সরকারি প্রচেষ্টার কি মূল্য থাকলো। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ করেন, বিশেষ করে কোয়েটায় জঙ্গিদের মধ্যে ভারত বিরোধী প্রভাব তৈরির চেষ্টা করছিলো পাকিস্তান। গত ১০ বছর ধরে তাই শান্তি প্রক্রিয়ার নামের এ ধরনের কাজকে বেশ সন্দেহের চোখেই দেখে আসছিলো কাবুল। রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তান এভাবেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলো কোন শক্তি অর্জন করতে পারেনি। বরং তা প্রতিনিয়ত দুর্বল হয়েছে। এছাড়াও বারবার আপত্তি সত্বেও আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে ট্যাঙ্ক হামলা বন্ধ করেনি পাকিস্তান। এর প্রতিবাদে আফগান সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফরও বাতিল করা হয়। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির কাছে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই প্রতিষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের পিস কাউন্সিলই এখন থেকে শান্তি প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সফরকালেই আফগান সরকারের কাছে বাগরাম কারাগারের কর্তৃত্ব হস্তান্তর করে মার্কিন সেনারা। ঐ কারাগারে বেশ কয়েকজন তালেবান সিনিয়র নেতা বন্দি আছেন। আর তাদের পুঁজি করেই শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে চায় কাবুল। এরই ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই কাতার সফর করার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের। তিনি সেখানে তালেবানদের সাথে আলোচনার স্বার্থে তাদের একটি কার্যালয় খুলবেন বলেও জানানো হয়েছে।