বর্তমান সময় রেলপথের সম্প্রসারণ, রোলিং স্টক বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন রেলগাড়ি চালু হতে যাচ্ছে। এই পুরো ব্যবস্থা সচল রাখতে যাত্রী ও মালবাহী কোচ, ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও নির্মাণ করতে রেলওয়ে কারখানাকে কার্যকর করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। রেলে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের জন্য রেলওয়ে কারখানাগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। এজন্য লোকবল বৃদ্ধি, তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল এবং অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এজন্য সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
গতকাল রবিবার সকালে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশের (ডাব্লিউ¬বিবি ট্রাস্ট) উদ্যোগে ‘রেলের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে কারখানাগুলোকে কার্যকর করার দাবিতে’ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তারা এসব কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর ডেভেলপমেন্ট অফিসার আতিকুর রহমান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পবার সম্পাদক আবদুস সোবহান। সম্মেলনে আলোচনা করেন ডাব্লি¬উবিবি ট্রাস্ট-এর ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি অফিসার মারুফ রহমান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কামাল আতাউর রহমান, মডার্ন ক্লাব-এর সভাপতি আবুল হাসনাত, পিস-এর মহাসচিব ইফমা হোসেন, ডাব্লি¬উবিবি ট্রাস্ট-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।
সম্মেলনে আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ইঞ্জিন, যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী গাড়ি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবেলায় এগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে গতিশীলতা, দক্ষতা ও উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রেল কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রেলের কারখানাগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। রেলের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে দক্ষ লোকবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল সরবরাহ এবং অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে রেল কারখানায় পুনরায় উত্পাদন ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কামাল আতাউর রহমান বলেন, কারখানায় মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে মানসম্মত ও প্রয়োজনীয় মালামাল ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করতে হবে। এমতাবস্থায় ক্রয়নীতিমালা সংশোধন করে অপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় বন্ধ করে চাহিদানুযায়ী প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় করা প্রয়োজন।
পিস-এর মহাসচিব ইফমা হোসেন বলেন, সৈয়দপুর রেল কারখানার পাশে অব্যবহূত বিশাল ভূসম্পত্তি দখল হয়ে গেছে। সম্পত্তি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আনা হলে কারখানার বাত্সরিক বাজেট, শ্রমিকদের ওভারটাইম, বেতন এবং সর্বোপরি কারখানায় উত্পাদন কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আবদুস সোবহান বলেন, গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অনেক দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীকে অবসরে পাঠানো হয়। এতে লোকবলের অভাবে কারখানার বার্ষিক উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। কারখানা আধুনিকায়নের সাথে সাথে দ্রুত লোকবল নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
