ভালো ছাত্র হওয়ার মন্ত্র-জপ নেই, তবে থাকতে হবে...

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:০৫
শুধুমাত্র পড়ার জন্য নয়, প্রাত্যহিক জীবন যাপনের একটা রুটিন করে ফেলুন। সূর্য ওঠার পূর্বেই শয্যা ত্যাগ করুন। সকালে কোমল পরিবেশে স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকবে। মন তরতাজা থাকে-এ সময়ে পড়াশোনা ভালো হওয়ারই কথা। শ্রেণিকক্ষেপূর্ণ মনোযোগী হবেন। হাতের লেখা সুন্দর, সুস্পষ্ট দ্রুত করার চেষ্টা করুন। যে কোনো পড়ার পূর্বে নিজের অটুট সংকল্প বা আত্মবিশ্বাস একটু ঝালিয়ে নিন। বুঝে জেনে পড়ার চেষ্টা করুন। অনুকূল পারিপার্শ্বিকতা প্রত্যেকটা মানুষই অগাধ সহজাত প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সেই মানুষটি তার চেনা পরিবেশ, পারিপার্শ্বিকতা, পারিবারিক প্রকৃতি, সামাজিক, আর্থিক ভেদাভেদ দেখে শেখে এবং এইভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় হতে থাকে। প্রচলিত একটা বাক্য আছে বনের বাঘে খায় না মনের বাঘে খায়। সহজ তো সহজই। কঠিনকে কঠিন করে দেখলে কঠিন আরো কঠিন হতে থাকে। কঠিন বিষয়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর পজিটিভ মানসিকতা ‘আমি সব পারি’, ‘আমাকে সব পারতে হবে’। আমি আর দশটা মানুষের মতো মানুষ, তাহলে অন্য কেউ পারলে সেই কাজটি আমিও পারব। এই কথাগুলো যদি আপনার মনের কথা হয় ছাত্র হিসেবে খারাপ হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। ছাত্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য থরে থরে সাজানো বই হরদম মুখস্ত করার চর্চা কিংবা পরীক্ষার খাতায় উগরে দিয়ে আসাই ছাত্রের কাজ নয়। ছাত্র জীবন হচ্ছে- S-Study, T-Truthfulness, U-Unity D-Desicipline, E-Education, N-Neatness T-Tidiness এসবের প্রত্যেকটা গুণ আপনি অর্জন করতে পরলেই আপনার জন্য সোনালী ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে। সাধনার সময় ছাত্র জীবন সাধনার সময়। এটা কি কাউকে বলে দিতে হয়? শুধু স্মরণ করলাম। বিশ্ব সংসারটাই ধ্যান আর জ্ঞানের। (ধ্যান+জ্ঞান=সফল জীবন) ভালো ছাত্র হওয়ার মন্ত্রজপ নেই। আছে আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায়, নিয়ম নিষ্ঠা, ধৈর্য, মনোযোগ, উচ্চাকাঙ্খা একাগ্রতা, ত্যাগের সুষম ব্যবহারিক বণ্টনের মাধ্যমে আত্মোন্নয়ন। আত্মবিশ্বাস নিয়মনিষ্ঠা, অধ্যবসায়, মনোযোগ, উচ্চাকাঙ্খা, একাগ্রতা উল্লেখিত বিষয়গুলোকে ফর্মুলা হিসেবে নিতে চাইলে নিতে পারেন। আত্মবিশ্বাসে আপনি হারকিউলিস। পড়াশোনার ব্যাপারে আপনার ত্যাগ, নিষ্ঠা, অধ্যবসায়ে আপনি অনমনীয়। অনেক ছাত্রকেই বলতে শোনা যায় ‘আমার মাথা ভালো না, পড়া মনে রাখতে পারি না, বলতে হবে তারা নিজেদেরকে গাইড করতে পারছেন না। সঠিক মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার কারণেও এটা হতে পারে। সকাল-সন্ধ্যার পড়ার সময়ের হিসাব মেনে চলুন। খাওয়া দাওয়া, নিজের শারীরিক পরিচর্যা, দিবা নিদ্রা, পারিবারিক ও বন্ধুর সঙ্গ সবকিছুই আপনি রুটিনে নিয়ে আসুন। মুখস্ত করে সঙ্গে সঙ্গে না দেখে লিখে ফেলবেন। আজকের কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখবেন না। শুধুমাত্র পড়ার জন্য নয়, প্রাত্যহিক জীবন যাপনের একটা রুটিন করে ফেলুন। সূর্য ওঠার পূর্বেই শয্যা ত্যাগ করুন। সকালে কোমল পরিবেশে স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকবে। আগামীকালের আলোচনায় থাকবে স্মরণশক্তি, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা,মেধা বাড়ানো,বুদ্ধি বিকাশ,আবেগ,পড়া মুখস্ত করার সহজ উপায়।