সম্পর্ক

উদাসীনতা কাটতে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৩০
আমি সত্যিই খুব ক্লান্ত। শুধু ক্লান্তই নয়। বিরক্তও। ভেবে বসবেন না শুধু শারীরিক পরিশ্রমই এর কারণ। যেকোনো সাংসারিক ব্যাপারে আমার স্বামীর উদাসীনতাই আমার ক্লান্তির কারণ। আমার স্বামী দিলশাদ যে কর্মঠ নয়, তা বিয়ের পরই বুঝতে পেরেছিলাম। বাড়ির কাজ করা তো ছেড়েই দিল, যে সব কাজ সাধারণত বাড়ির পুরুষরা করে থাকেন তাতেও তার অনীহা। প্রথম প্রথম আমি আর আমার শাশুড়ি দু’জন মিলে ঘরে-বাইরে দু’দিকই সামলে নিতাম। কিন্তু এখন উনি অসুস্থ। আমার একমাত্র সন্তান সিফাতও ছোট। সন্তানকে সামলে, অসুস্থ শাশুড়ির সেবাযত্ন করে একা আর সংসারের কাজ সামাল দিতে পারি না। দিলশাদকে কিছু করতে বললেই ও যেন আকাশ থেকে পড়ে। খুব জোর করলে এত দায়সারাভাবে কাজটা করে যে, পরে আমাকে সেটা দ্বিগুণ পরিশ্রম করে করতে হয়। সব কাজ একা করতে করতে আমি সত্যিই আর পারছি না। কিন্তু এই নিয়ে দিলশাদের সাথে আলোচনা করতে গেলেই ঝগড়া লেগে যায়। এ রকম গল্প আমাদের সমাজে অসংখ্য সংসারে বিদ্যমান। এই সমস্যা সমাধানে আপনাদের জন্য রইল কিছু পরমার্শ— নতুন ভাবনা সাংসারিক কাজে উদাসীনতা অনেক পুরুষের মধ্যেই দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো ছেলেবেলায় তারা সেভাবে ঘরের কাজের সাথে পরিচিত হয়নি। আপনার স্বামীর ক্ষেত্রেও যদি তা হয়ে থাকে, তবে তাকে খুব বেশি দোষ দেওয়া যাবে না। পুরো ব্যাপারটা আপনাকে কৌশলে হ্যান্ডেল করতে হবে। প্রথমে বুঝতে চেষ্টা করুন আপনার স্বামী কেন সংসারের কাজ করতে আগ্রহবোধ করে না। সেটা বুঝে উঠতে পারলেই তাকে দিয়ে সংসারের কাজ করানো সম্ভব হবে। সাংসারিক কাজের একটা দায়ভার থাকা উচিত। স্ত্রীর পাশাপাশি স্বামীকেও কিছু কাজ ভাগ করে নিতে হবে। এতে সংসারের কাজগুলো সঠিক সময়ে করা যায়। সংসারের নানা অসুবিধার কথা স্বামীকে খুলে বলুন। সেইসাথে সেগুলোর সমাধানে স্বামীর কাছে পরামর্শ চান। তার পরামর্শ মতো কাজ করতে চেষ্টা করুন। এতে সাংসারিক কাজে ধীরে ধীরে স্বামীর অংশগ্রহণ বাড়বে। একটু ভেবে দেখুন তো কী ধরনের কাজ করতে আপনার স্বামী ভালোবাসেন? উনি যদি বইপত্রের জগতের মানুষ হন, তবে তাকে ছেলেমেয়েকে পড়াতে বলুন। ছুটির দিনগুলোতে স্বামীকে বলতে পারেন, নতুন আইটেমের কোনো খাবার রান্না করতে। এতে খাবারের স্বাদে ভিন্নতা পাবেন পরিবারের সবাই। মনে রাখবেন কিছু সাংসারিক কাজ একসঙ্গে করুন। সাপ্তাহিক বাজার করার সময় অবশ্যই স্বামীকে সঙ্গে নেবেন। শপিং ছাড়াও অন্যান্য পারিবারিক দায়িত্ব যেমন—আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখাসাক্ষাত্, বাড়িতে ছোটখাটো গেটটুগেদার অ্যারেঞ্জ করা ইতাদির সময় অবশ্যই স্বামীকে সঙ্গে নেবেন। নিজেদের একটা ব্যক্তিগত সময় অবশ্যই রাখবেন। এই সময় সাংসারিক কোনো কথা না বলে শুধু আড্ডা দিন। এতে নিজেদের সম্পর্ক দৃঢ় হবে। মডেল দোলা ছবি দীপঙ্কর দীপু