আপনি কি জানেন যে আপনার সারা দিনের কোন বেলার খাবারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? সেটা হচ্ছে সকালের নাস্তা। অনেকেই সকালের নাস্তা না করে বাসা থেকে বের হন, তারপর দুপুরে অনেক বেশি খান। সকালের নাস্তা না করার পেছনে যে অজুহাত তারা দেন তাহলো—সময় নেই, নাস্তা বানাতে কষ্ট লাগে, নাস্তা না খেলে ওজন কমবে ইত্যাদি। এতে করে ওজন তো কমেই না বরং বেড়ে যায়।
সকালের নাস্তা করার উপকারিতা
যারা সকালের নাস্তা করেন, তারা সারাদিনের এক-তৃতীয়াংশ ক্যালরি গ্রহণ করেন। যা পরের বেলার খাবারগুলো কম খেতে সাহায্য করে। সকালের নাস্তা ভালো মতো করলে সারাদিন কম খাওয়া হয়। কারণ নাস্তা খাওয়ার ফলে পেট ভরা লাগে, পরবর্তীতে কম খাওয়া হয়, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটা মেটাবলিজম শুরু করতে ও বাড়াতেও সহায়তা করে। কারণ সকালের নাস্তা পেটে যাওয়ার মাধ্যমেই আপনার হজম প্রক্রিয়া শুরু হয়। সকালের নাস্তা না করলে সারাদিন একটি খাই খাই ভাব থাকে। ফলে দিনের পরবর্তী খাবারগুলো বেশি পরিমাণে খেতে ও বেশি ক্যালরি, চিনি ও ফ্যাটযুক্ত খাবার খেতে ইচ্ছা করে। অধিক পরিমাণে অধিক ক্যালরি ও ফ্যাটযুক্ত খাদ্য খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তা ছাড়া সকালে খেলে সারাদিন কাজের শক্তি পাওয়া যায়। সারাদিনের কাজেও মনোযোগ আসে যদি সকালের নাস্তা ঠিকমতো করা হয়, মন-মেজাজও ঠিক থাকে । তা ছাড়া সকালের নাস্তা করলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়, তাই যারা বিকালে বা সন্ধ্যায় শরীরচর্চা করেন, তারা ঠিকমতো শরীরচর্চা করতে পারেন।
স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সকালের নাস্তা করা। সুতরাং, সকালের নাস্তাটি সবচেয়ে ভালো মতো করলেই সবচেয়ে লাভ পাওয়া যায়। সকালের নাস্তা ৮টার মধ্যে করা উচিত। অনেকে দেরি করে, যেমন ১০ বা ১১টাতে নাস্তা করেন, এটা কোনো স্বাস্থ্যসম্মত জীবন নয়। কিন্তু আবার মনে করবেন না যে, সকালের নাস্তা বেশি বেশি করে খেয়ে সারাদিন কম খাবেন। সারাদিনের প্রতি বেলায় খাবার খাবেন পরিমিত পরিমাণে। কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খাবেন সকালের নাস্তায়। যেমন—লাল আটার রুটি, সবজি, ফল ইত্যাদি। সাথে ডাল, ডিম, মাংস যেকোনো একটি খেতে পারেন অল্প বা পরিমিত পরিমাণে। সকালের নাস্তাটি যেন সম্পূর্ণ হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। যেমন—শুধু শর্করা (রুটি, ভাত ইত্যাদি) না খেয়ে, যেন খাবারের সব উপদান—শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, মিনারেল, আঁশ ইত্যাদি থাকে তা লক্ষ রাখবেন। উপরে উল্লিখিত নাস্তাগুলো অধিক আঁশসমৃদ্ধ, কম ক্যালরিযুক্ত। যা স্বাস্থ্যকর তো বটেই, ক্ষুধা কম লাগা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজমেও সহায়ক। তাই আপনার সারাদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সকালের নাস্ত খেয়ে নিজের শরীরটিকে বাঁচান এবং কর্মক্ষম থাকুন।
