ব্যস্ততার মাঝে নিজের যত্ন নেওয়ার আদর্শ সমাধান হতে পারে ঠিক ঘুমাতে যাওয়ার আগের সময়টুকুতে রূপচর্চার কাজটুকু সেরে ফেলা। মৌলিক কিছু পরিচর্যা আছে, যা প্রতিদিনই টুকটাক করা উচিত। এই নিয়মিত যত্নটুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোজ রাতে একটু নিজের পরিচর্যা করে ঘুমালে জীবনভর সুস্থ-সুন্দর থাকা খুবই সম্ভব। শোয়ার আগে রূপচর্চা মানেই একগাদা সাজ-সরঞ্জাম জোগাড় করে, এটা-ওটা লাগিয়ে-মাখিয়ে ঘুমচোখে বসে থাকা নয় মোটেও। বরং ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজের সৌন্দর্যকে দেওয়া একটুখানি বাড়তি সময়, যা কিনা সকালে আপনাকে জাগিয়ে তুলবে আগের চাইতে অনেক বেশি সজীবতায়।
প্রথমেই খাদ্যাভ্যাস
আমাদের দেশের প্রথা অনুযায়ী সবাই একত্র হওয়ায় রাতের খাবারই হয় সারা দিনের মূল ও বেশ ভারী আহার। তাই ঘুমানোর আগে হালকা খাবার খাওয়াটা বাঞ্ছনীয় হলেও চাইলেও আলাদা করে নিজের জন্য আলাদা কিছু করে নেওয়াটা সব সময় সম্ভব হয় না। আর তাই রাতের খাওয়ার মেন্যু বদলের ঝঞ্ঝাটে না গিয়ে পরিবারের সবাই মিলে ঘুমানোর অন্তত ঘণ্টা তিনেক আগে খাওয়ার অভ্যাস করুন, যাতে খেয়েই শুয়ে না পড়তে হয়, যা খুব ক্ষতিকর। খেয়ে নিয়ে আধ ঘণ্টা হাঁটুন। জানা থাকলে অন্যান্য ছোটখাটো ব্যায়াম, ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে পারেন। তার আধ ঘণ্টা পর শুতে যান। এতে শরীর বেশ ঝরঝরে লাগবে। খাওয়ার পর খেতে পারেন এককাপ চায়নিজ জেসমিন টি, এতে শরীরে মেদ জমবে না। ঘুমানোর আগে একগ্লাস পানি খেয়ে নিন। নিয়মমাফিক পরিচর্যা, সুষম খাবার, সুন্দর জীবনযাপন আপনাকে ভালো ও সুস্থ রাখবে। আর সুস্থতা প্রতিফলিত হবে আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যে। তাই আপনার বিরামহীন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও ঘুমের আগে এটুকু ঘরোয়া পরিচর্যাতেই আপনি থাকবেন একদম সুস্থ, প্রাণবন্ত, সুন্দর।
ত্বকের যত্ন
সুন্দর ত্বকের মূলমন্ত্রই হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। ত্বকের ময়লা ঠিকমতো পরিষ্কার করা না হলে পিম্পল, ব্রণ (অ্যাকনে), র্যাশ হতে পারে। ত্বক হয়ে পড়ে খসখসে, রুক্ষ, অমসৃণ। তাই রাতে ঘুমানোর আগে মুখটাকে পরিষ্কার করে ঘুমালে সারা রাতের লম্বা সময় ত্বক একেবারে তরতাজা থাকবে।
তবে সবকিছুর আগে বুঝে নিতে হবে নিজের ত্বকের ধরন, যা নিজেই পরীক্ষা করে নিতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন—
নাকের দুই পাশে, গালে অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে আছে, তাহলে ত্বক অবশ্যই তৈলাক্ত।
মুখটা বেশ টান ও শুকনো থাকলে, পিম্পলের তেমন প্রবণতা না হলে ত্বক একেবারে শুষ্ক।
নাকের ওপর ও দুই পাশে তৈলাক্ত, কিন্তু বাকিটা চেহারায় টানটান ভাব থাকলে ত্বকের ধরন মিশ্র।
তার পরও অবশ্যই কোনো বিশেষজ্ঞের পারামর্শ নিয়ে আপনার ত্বকের ধরন আগে যাচাই করে নিতে পারেন। ধরন বুঝে করতে হবে যত্ন। ত্বকের যত্নে ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে ঘুমানোর আগে।
‘ফিল গুড’
চেহারা সবারই কমবেশি খুঁত থাকে। হতাশ না হয়ে নিজেকে ভালোবেসে মেনটেইন করুন।
চেহারা কিংবা বডি ফিটনেসের জন্য পছন্দমতো ড্রেস পরতে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে নিজের সাথে মানানসই ড্রেস পরাটাই উত্তম। তাতে আপনাকে ভালোই লাগবে, কারণ সৌন্দর্য জমকালো পোশাকের তুলনায় মানানসই পোশাকেই বেশি ফুটে ওঠে।
নিজেকে ভালবাসার আরও একটি মন্ত্র হলো ডোন্ট ফিল গিল্টি। কোনো পার্টিতে গিয়ে একটু বেশি খেয়ে ফেলার পর মনে হতে পারে ভুল হয়ে গেছে, ডায়েটিং চলছে, খাওয়াটা উচিত হয়নি। আর কখনও খাব না!—এ জাতীয় রেজলিউশন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরেরদিন একটু বেশি ওয়ার্কআউট নিলেই হবে।
