ঢাকা শহরে যে কয়টি ফার্নিচার কোম্পানি রয়েছে তার মধ্যে ‘ব্রাদার্স ফার্ণিচার’ অন্যতম। উন্নত ও আধুনিক ফার্নিচার প্রদানের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ‘ব্রাদার্স ফার্ণিচার’ ১৯৮৯ সালে তার যাত্রা শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত সে তার সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছে। এর প্রধান শাখা বারিধারায় অবস্থিত। ব্রাদার্সের মোট ১৪টি শো-রুম রয়েছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে ৮টি শো-রুম। কাকরাইলের শো-রুমটিও আয়তনের দিক দিয়ে বিশাল বড়।
আসবাবপত্র তৈরির প্রধান উপাদান হলো কাঠ, স্টিল, পারটেক্স ইত্যাদি। এসব উপাদান দিয়ে যেসব আসবাবপত্র তৈরি করা হয় জেনে নিন। চেয়ার, টেবিল, খাট, আলমারি, ডিনার ওয়ার্গন, টিভি কেবিনেট, বুক সেলফ ইত্যাদিতে মূলত কাঠ বা লেমিনেটেড বোর্ড ব্যবহার করা হয়। চেয়ার, টেবিল, খাট, ডিনার ওয়ার্গন, বুক সেলফ ইত্যাদি অ্যালুমিনিয়ামের স্মনওয়েও পাবেন কিছু। মার্বেল পাথরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ইত্যাদি সাজানোর পণ্য পাওয়া যায় এই শো-রুমে। এখানে যে সব আসবাবপত্র পাওয়া যায় তা রেডিমেট ক্রয় করতে পারেন, আবার মডেল পছন্দ অনুসারে অর্ডার দিলে তারা পণ্য বানিয়ে ক্রেতাদের দিয়ে থাকেন। এখানে বিভিন্ন প্রকার বা মডেলের খাট, সোফা, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, আলমারি ইত্যাদি পাওয়া যায়। মডেল অনুযায়ী দাম বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটা ধারণা দেওয়া যাক পণ্যগুলোর। বেড রুম ফার্নিচারের মধ্যে রয়েছে বেড, বেড সাইড টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, চেস্ট অব ড্রয়ার, আলমারি, বেড রুমের চেয়ার, রকিং চেয়ার। ডাইনিং পণ্যের ভেতর রয়েছে ডাইনিং চেয়ার, ডাইনিং সেট, সাইড বোর্ড, ওভেন স্ট্যান্ড, শোকেস। ড্রয়িং শোকেস, কর্নার সেলফ, সেলফ সেট, সেন্টার টেবিল, সাইড টেবিল, টিভি, ট্রলি, ম্যাগাজিন ট্রলি, ম্যাগাজিন সেলফ, টেলিফোন টেবিল। রয়েছে অফিস টেবিল ও এই রকম বিভিন্ন ফার্নিচারও। এখান থেকে যেসব পণ্য ক্রয় করে সেইসব পণ্য পরিবহনের জন্য কোম্পানির নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করা। ব্রাদার্স তার পণ্যসমূহের জন্য ১ বছরের ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে এবং ৫ বছরের জন্য গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। ১ বছরের মধ্যে কোনো প্রকার সমস্যা হলে ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ তার সম্পূর্ণরূপে ঠিক করে দিতে বাধ্য থাকে। এই প্রতিষ্ঠানটি আসবাবপত্র তৈরিতে কাঠ সাধারণত কানাডা থেকে আমদানি করে থাকে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই শো-রুমটি। বছরের পহেলা বৈশাখ, ঈদ ইত্যাদি বিভিন্ন উত্সবে ব্রাদার্স মূল্যহ্রাসের বিভিন্ন অফার দিয়ে থাকে। খোঁজ রাখতে পারেন সেই সময়টাতেও।
চলুন জেনে নেই ফার্নিচার ভালো রাখার কিছু টিপস
নিয়মিত শুকনো ও নরম কাপড় দিয়ে কাঠের আসবাব পরিষ্কার করুন।
আসবাবের খাঁজে ধুলো যেন জমে না থাকে। ভ্যাকুয়াম ক্লিনারও ব্যবহার করতে পারেন। তবে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছবেন না। এতে আসবাবের ওপর দাগ পরতে পারে।
আসবাবের পোকামাকড়ের উপদ্রব ঠেকাতে নিমের তেল স্প্রে করতে পারেন।
ঘরের যে অংশটিতে বেশি রোদ পড়ে সেখানে কখনও কাঠের আসবাব রাখবেন না।
বছরে অন্তত একবার ফার্নিচার পলিশ করুন।
ডাইনিং টেবিলে কখনোই সরাসরি গরম জিনিস রাখবেন না। টেবিল ক্লথ ব্যবহার করুন।
মাঝে মাঝে আসবাবের ডেকোরেশন পরিবর্তন করুন।
কাঠের আসবাব এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোর সময় খেয়াল রাখুন ফার্নিচারের জয়েন্ট পয়েন্টগুলো ঠিক আছে কি না।
ফার্নিচার ঘরের সম্পদ, এর সঠিক যত্ন নিলে আমরা বহু বছর ধরে এগুলো নতুনের মতোই ব্যবহার করতে পারব। আর এতে করে আমাদের সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অর্থও সাশ্রয় হবে।
