ইত্তেফাক রিপোর্ট
শুল্ক বিভাগের কাছে তুলনামূলক বিশ্বস্ত ও সক্ষম আমদানি-রপ্তানিকারকসহ এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা শুল্কায়ন ও বন্দরে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন। আমদানি-রপ্তানিসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যাদের অতীত রেকর্ড অপেক্ষাকৃত ভালো, মিথ্যা ঘোষণা বা অন্য কোনো অভিযোগ নেই, আর্থিক ও কারিগরিভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবসায়ীদের অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) হিসেবে ঘোষণা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বন্দর থেকে পণ্য দ্রুত খালাস, অপেক্ষাকৃত কম কায়িক পরীক্ষা করা, ব্যাংক গ্যারান্টির বাধ্যবাধকতা নমনীয় করার মতো সুবিধা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের তিনটি ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করেছে শুল্ক বিভাগ। এর ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শিগগিরই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও শুরু হবে।
গত রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি কোম্পানিকে এইও হিসেবে ঘোষণা করেছে এনবিআর। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্কয়ার ও ইনসেপ্টা। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে সনদ প্রদান করেন।
এ সময় জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে এ সুযোগ বিস্তৃত করা হবে। এ ধরনের বাণিজ্য কার্যক্রমে ২৯ ধরনের কাগজপত্রের পরিবর্তে মাত্র ৫ ধরনের নথিপত্র জমা দিতে হবে। আমদানিকারকের নিজস্ব গুদামেই পণ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। জাহাজ থেকে পণ্যের চালান ট্রাকে করে সরাসরি আমদানিকারকের গুদামে যাবে। পণ্য খালাস করতে কাগজপত্র নিয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষের দপ্তরের টেবিলে টেবিলে দৌড়াতে হবে না। দুই পক্ষের সব যোগাযোগ হবে ই-মেইলে। ফলে দ্রুত পণ্য খালাস হবে। তবে এ ধরনের সুবিধা পেতে হলে সাত শর্ত পূরণ করতে হবে।
এনবিআর সদস্য খন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ইউএসএআইডি-বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাক্টিভিটির টিম লিডার মো. নাসির উদ্দিন, ইউএসএআইডি বাংলাদেশ-এর প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ অফিসার, পিটার গোথিয়ার প্রমুখ।
