বাংলাদেশ দল যখন ঢাকা শহর ত্যাগ করেছিলো, তখন তাপমাত্রা ছিলো চল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুই ছুই। অন্যদিকে ডাবলিনে গতকাল তাপমাত্রা ছিলো ১০ ডিগ্রির নিচে। এই প্রবল তারতম্য দলের খেলোয়াড়দের তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রবল ঠান্ডায় খেলোয়াড়রা জড়সড়ো।
অনেকেই মনে করছেন, অনুশীলন ম্যাচে বাংলাদেশ দলের যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের কারণ এই ঠান্ডা। কিন্তু দলের ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি বলছেন, ঠান্ডার চেয়েও বড় সমস্যা আয়ারল্যান্ডের একেবারে ভিন্ন ধরনের উইকেট। দলের ভেঙে পড়ার ব্যাখা দিতে গিয়ে ম্যাকেঞ্জি বলছিলেন, ‘অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা জানে যে, কিভাবে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হয়। আমার মনে হয় না ঠান্ডাটা প্রধান সমস্যা। প্রধান সমস্যা উইকেট। লাইন পরিবর্তন হচ্ছে, লেন্থ পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে আপনার স্কোর করার সুযোগও পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ফলে এটা আবহাওয়ার সমস্যা না, এটা উইকেটের সমস্যা। এখানে যে ভিন্ন ধরনের বোলার তারা সামলাচ্ছে, সেটাই আসল ব্যাপার।’
ব্যাটিং কোচ হিসেবে ম্যাকেঞ্জিকে বিশ্বকাপে দলের ব্যাটসম্যানদের সাফল্য নিশ্চিত করতে হবে। সেটা করতে তিনি কী বদলের কথা ভাবছেন, তাও বললেন এই কোচ, ‘ইংল্যান্ডের উইকেট দক্ষিণ আফ্রিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো গতিসম্পন্ন না। ফলে এখানে খেলতে টেকনিক্যাল দিক নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না। অবশ্যই ইংল্যান্ডে বোলিং করার সময় স্লোয়ার বলের বাউন্সারে বোলাররা বেশি স্বচ্ছন্দ থাকবে। ফলে আপনাকে উইকেটের আড়াআড়ি অংশে খেলতে অভ্যস্ত হতে হবে। বাংলাদেশে আপনি স্রেফ বলের ওপর হাত ছুড়ে দিতে পারেন এবং লেগ সাইডে খেলার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ডে আপনাকে বলের পিচ পর্যন্ত পেতে হবে, বলের ওপর চড়াও হতে হবে এবং বল যতো দেরিতে সম্ভব খেলতে হবে।’
ম্যাকেঞ্জি বলছিলেন, তার, প্রধান কোচ স্টিভ রোডসের এবং ওয়ালশের ইংল্যান্ডের আগের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বেশ কাজে আসবে, ‘বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে কাজ করছি আমরা। আমাদের কোচ স্টিভ রোডস নিজে ইংল্যান্ডের মানুষ। ফলে সে ইংলিশ কন্ডিশন খুব, খুব ভালো বোঝে। কোর্টনি ওয়ালশ নিজে অনেকদিন ইংল্যান্ডে খেলেছে। আমি নিজে ইংল্যান্ডে পাঁচ বছর খেলেছি। ফলে আমরা বিভিন্ন উইকেটের বিভিন্ন লক্ষ্যণ দেখে বোঝার চেষ্টা করবো এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার চেষ্টা করবো। আমরা যতটা ভালো পারি, তত ভালোভাবেই ছেলেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করবো। আমরা তত্ত্বটা দাঁড় করাতে পারি। কিন্তু কাজটা শেষ পর্যন্ত ছেলেদেরই করতে হবে।’
সবমিলিয়ে ম্যাকেঞ্জি আশাবাদী মানুষ। তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত ভালো কিছুই করবেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা খুবই মানসম্পন্ন। এদের উইকেটে একটু সময় দিলে তারা নিজেদের পথ বের করে নিতে পারে। আমরা এখন সেটা নিয়েই কাজ করছি। আমরা এখানে আগে আগে এসেছি। এখন ছেলেদের সতেজ রাখার চেষ্টা করছি। আমি আশা করি সবকিছু ভালো হবে।’
