বিশ্বব্যাপী সেরা পণ্য নির্মাতা হিসেবেই সুপরিচিত টেক জায়ান্ট অ্যাপল। সারা বিশ্বেই রয়েছে তাদের সরব উপস্থিতি। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি বিশ্বের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বাজার চীনেও রয়েছে অ্যাপল’র অনেকগুলো নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র। এমনকি তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজারই হচ্ছে চীনের প্রযুক্তি বাজার। তবে চীনে তাদের একাধিক পণ্যে বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদ কিংবা বিক্রয়োত্তর সেবাতে রয়েছে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভিন্নতা। অ্যাপল তাদের চীনা ওয়েবসাইটে এসব বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না দিয়ে ‘খানিকটা ভুল বুঝাবুঝি’ বলে এক মন্তব্য করে। চীনের গ্রাহকদের কাছে অ্যাপল’র এই আচরণ অনেক বেশি দাম্ভিকতার প্রকাশ বলেই মনে হয়। গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে এই নিয়ে গোটা চীনেই চলছে তুমুল আলোচনা। চীনের প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রই এ ক্ষেত্রে অ্যাপল’র বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চীনের ভোক্তাদের সংগঠন চায়না কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশনও অ্যাপল’র বিভিন্ন পণ্যে অন্যান্য দেশের সাথে সমন্বয় রেখে একই ধরনের বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাপল’র কাছে। চীনে অব্যাহত এই ধরনের অসন্তোষে চীনের গ্রাহকদের কাছে অ্যাপলকে ক্ষমা প্রার্থনার কথাও বলেছেন অনেকেই। অবশেষে সেটিই করলেন অ্যাপল প্রধান টিম কুক। সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি চীনের গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অ্যাপল পণ্যে, বিশেষত আইফোন ৪ এবং আইফোন ৪এস-এর বিক্রয়োত্তর সেবার নীতিমালা নিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। এই আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে চীনে আমরা যে ধরনের দৃশ্য দেখছি, তাতে এটা স্পষ্ট যে এখানে আমাদের যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। আর এর ফলেই তাদের (চীনের গ্রাহক) ধারণা হয়েছে যে আমরা দাম্ভিক এবং তাদের প্রতি আমাদের কোনো নজর নেই। এই ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রাহকদের কাছে এই ধরনের ভুল বক্তব্য পৌঁছানোয় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ চীনের গ্রাহকদের সাথে নিজেদের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে ভবিষ্যতে আরও বেশি যোগাযোগের ব্যবস্থা চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, অ্যাপল’র দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বাজার অচিরেই অ্যাপল’র বৃহত্তম বাজারে পরিণত হবে বলে মনে করেন টিম কুকসহ প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের অনেকেই। তাই চীনের বাজার নিয়ে অ্যাপলকে একটু বেশিই সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
