‘এসো লিখিয়ে সব লেখায় লেখায় ভাঙ্গি মগজের কারফিউ’ ভাঙ্গি মগজের কারফিউ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-সাহিত্যের ছোট কাগজ চিহ্নর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এপার বাংলা-ওপার বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের সম্মেলন চিহ্নমেলা। গত ১৩-১৪ মার্চ সৃজনশীল লেখক তৈরি ও দেশীয় সাহিত্যের বিকাশ, ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতির ধারাকে লালন করার জন্য এবার বাংলাদেশ ও ভারতের কবি-সাহিত্যিকদের লেখা প্রায় দুই শতাধিক গ্রন্থ উপস্থাপন করা হয়। এ সম্মিলনে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিকরা উপস্থিত থেকে মেলার মাত্রা বাড়িয়েছেন বহুগুণে।
মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে বাংলার সাহিত্য প্রেমীদের একত্রিত করতে ২০০০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় শিল্প-সাহিত্যের ছোট কাগজের পত্রিকা চিহ্ন। এরপর থেকে অনেক চড়াই-উত্ড়াই পেরিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১৪ বছরে পদার্পণ করল এই প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলেও এটি ইতোমধ্যে দেশের গন্ডি পেরিয়ে ওপার বাংলার লাখো বাংলাভাষী প্রেমীদের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে। সারা বাঙালিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চিহ্নর প্রচার প্রসার। চিহ্নের জন্ম হয়েছিল সৃজনশীল লেখক তৈরি ও দেশীয় সাহিত্যের বিকাশ, ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতির ধারাকে লালন করার পাশাপাশি নতুন ধারার স্পষ্টভাষী ও পরিচ্ছন্ন মনের সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করতে। চিহ্ন প্রতিবছর প্রকাশ করে থাকে দুটি শিল্প-সাহিত্যের ছোট কাগজ। এ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২৬টি সংখ্যা প্রকাশ করেছে। তাদের এই কার্যক্রমকে বাঙালিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এ বছরের ১৩-১৪ মার্চ আয়োজন করে ভারত-বাংলাদেশ মিলে বাংলাভাষী লেখক-পাঠক-সম্পাদক সম্মিলন ‘চিহ্নমেলা’।
১৩ মার্চ সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবন প্রাঙ্গণে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কবি সৈয়দ শামসুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুুল হক, কবি আসাদ মান্নান, কবি আনোয়ারা সৈয়দ হক প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মেলায় আগত লেখক-পাঠক-সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক শিক্ষর্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি চিহ্ন মেলা থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চিহ্ন মেলায় এসে শেষ হয়।
