কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু প্রকল্প শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০০
কাজের শুরুতেই মুথ থুবড়ে পড়েছে কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি। সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরুর পরপরই প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির গাফিলতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অযোগ্যতার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে। ফলে নানা অনিয়ম, জটিলতা ও টানা-হেঁচড়ায় নির্মাণের শুরুতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রতিষ্ঠান আনোয়ার হোসেন কনস্ট্রাকশন ফার্মকে কার্যাদেশ প্রদানের নেপথ্যে অনিয়ম-দুর্নীতি নাকি রাজনৈতিক হস্তপেক্ষ ছিল তা নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠেছে। প্রকাশ, হরিপুরবাসী তাদের চলাচলের সুবিধার্থে দীর্ঘকাল যাবত্ গড়াই নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবিতে গঠন করা হয় সেতু বাস্তবায়ন কমিটি। জনগুরুত্বসম্পন্ন কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলেরই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু মহাজোট সরকারের শেষদিকে সেতু নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পটির কাজ ভেস্তে যেতে বসেছে। উল্লেখ্য, এর আগে আরো ৫ বার এই সেতুর টেন্ডার আহবান করা হয়েছিল। কিন্তু টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কাউকে প্রকল্পের কাজ দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে টেন্ডারের মাধ্যমে আনোয়ার হোসেন (এফই,এস,এল-জেভি) কনস্ট্রাকশন কোম্পানী কাজটি পাওয়ার পর ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ গড়াই নদীর তীরে জিকেঘাট এলাকায় কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু প্রকল্পের নির্মাণ কাজে অভিযোগ প্রকাশ এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করে। কিন্তু সেতু নির্মাণে ঠিকাদারী ওই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার অভাব, দক্ষ জনবল সংকট ও অটো রোটারী মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম না থাকায় সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজই দারুণভাবে ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে কাজের অগ্রগতির জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে বার বার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হয়ে বরং ধীরগতিতে জোড়াতালির কাজ চলতে থাকে। এরপর সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সেতু নির্মাণ উপযোগী অটো রোটারী মেশিন, দক্ষ জনবল ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের তাগিদ দেয়ার পরও প্রকল্পের কাজে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কবীরের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক ২ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা নিরাপত্তা জামানতসহ সমপ্রতি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করে দেন। কার্যাদেশ বাতিল করে দেয়ার পর দুই থেকে আড়াই মাস যাবত্ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ সরঞ্জাম ও লোকবল গুটিয়ে নিয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কবীর জানান, এত কম টাকা ব্যয় ধার্যে এধরনের সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই নতুনভাবে প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ ও প্রকল্পটি নিরূপণ করা হচ্ছে। প্রাক্কলন ব্যয় নিরূপণের পর পরবর্তীতে পুনরায় টেন্ডার আহবান করা হবে। কত সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ ও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সুষ্ঠু কারিগরি পরিকল্পনা ছাড়াই সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে সেতু উদ্বোধন ছিল ক্ষমতাসীন দলের ভোটের রাজনীতি বলে এলাকার মানুষ অভিযোগ করেন। আরও উল্লেখ্য, এর আগে ২০০১ সালে জোট সরকারের আমলেও কোন টেন্ডার ও অর্থ বরাদ্দ ছাড়াই এই সেতু নির্মাণে লোক দেখানো ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়েছিল।