ডিজিটাল পাসপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৫
সনাতনী পাসপোর্ট ধারার বদলে নতুনধারার পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু নানা জটিলতায় এখন স্থবির হতে চলেছে এই প্রকল্পের গতি। ডিজিটাল পাসপোর্ট বইয়ের অভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এমআরপি পাসপের্ট ইস্যুর কাজ। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ১৯০টি দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক করায় ২০১০ সাল থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইস্যু শুরু করে বাংলাদেশ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয় ৫২৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। প্রকল্পে প্রথম দফায় ৬০ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সরবরাহের কাজ পায় পোল্যান্ডের কোম্পানি পিডব্লিউপিডব্লিউ। ইতোমধ্যেই পিডব্লিউপিডব্লিউ’র সরবরাহকৃত পাসপোর্টের সাথে ইনভেনটরি সফটওয়্যার সরবরাহ না করার কারণে এক লাখের বেশি পাসপোর্ট চুরি হয়ে যায়। এদিকে চুক্তি অনুযায়ী আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম দফার কাজ শেষ হয়ে যাওয়া এবং এমআরপি’র চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় আরও দেড় কোটি পাসপোর্ট তৈরিরজন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের শর্ত মেনে নিলামে সর্বনিম্ন দরদাতাকে দ্বিতীয় দফার দেড় কোটি পাসপোর্ট তৈরির কাজ দিতে মত দেয় মূল্যায়ন কমিটি। এ সময় পিডব্লিউপিডব্লিউ-ও দরপত্র জমা দেয়। জমা দেওয়া দরপত্রে প্রথম দফায় উচ্চ দর নির্ধারণের বিষয়টি প্রকাশ পায়। গত সেপ্টেম্বরে আহ্বান করা দরপত্র ক্রয়কারী মোট ১৮টি কোম্পানি নতুন পাসপোর্ট সরবরাহে দরপত্র কিনলেও দরপত্রের শর্ত পূরণ করতে না পারায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিতে পারেনি। দরপত্র জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইরিশ প্রতিষ্ঠান জিবি, পোল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউপিডব্লিউ এবং ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ডেলারু ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা নেই। এর মধ্যে দরপত্রের নিয়ম মেনে ইংল্যান্ডসহ উন্নত বিভিন্ন দেশের এমআরপি তৈরিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ২০০ বছর ধরে সিকউরিটি প্রিন্টিং নিয়ে কাজ করা ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ডেলারু-কে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ডেলারু বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে পাসপোর্ট, বর্ডার কন্ট্রোল, ভোটার নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিচ্ছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক নোট তৈরি করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া তারা প্রায় ১৫০টি দেশের মুদ্রা ও কাগজের নোট সরবরাহ করছে প্রায় ২০০ বছর ধরে। এর মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ড অন্যতম। দ্বিতীয়বার মূল্যায়নেও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্রের শর্ত পূরণ করা ডেলারুকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে। আশা করা হচ্ছে অচিরেই ডেলারুর সহায়তায় ডিজিটাল পাসপোর্ট মানুষের হাতে পৌঁছাবে। কিন্তু মাঝ পথে এসে নানা প্রশাসনিক জটিলতায় এমআরপি পাসপোর্টের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানিতে যে বিপুল পরিমাণের পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে, তা সরবরাহ না করতে পারলে শ্রম বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পাশাপাশি সরকারি অর্থ, মূল্যবান সময়ের অপচয় এবং নাগরিক ভোগান্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিষয়টির দ্রুত সমাধান আশা করছেন সাধারণ পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিয়ে এমআরপি পেতে আগ্রহী পাসপোর্টধারীরা। এখানে উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পোল্যান্ডের কোম্পানি পিডব্লিউপিডব্লিউ প্রতিটি পাসপোর্ট বইয়ের বিপরীতে এ বছরের চেয়ে প্রায় ০.৫০ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত নিয়েছে। চার বছর আগেও তারা যে দামে পাসপোর্ট বই তৈরিকরেছে, এবারে ৪ বছর পরে সবকিছুর দাম বেড়ে গেলেও তারা কম দাম উল্লেখ করেছে। ফলে গত মেয়াদের চুক্তিতে তারা বাংলাদেশে সরকারের কাছ থেকে ১০০ কোটিরও বেশি টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়।