বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করে বছরে দুই মৌসুমে ধান চাষে ১৪ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। ব্রি’র খামার যন্ত্রপাতি ও ফলনোত্তর প্রযুক্তি বিভাগের কৃষি যন্ত্রপাতি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ (এফএমটিডি) প্রকল্পের উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, এ প্রকল্পের উদ্যোগে ৬০ শতাংশ ভর্তুকিতে বিক্রি করা কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০ জেলার কৃষক পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া জাগিয়েছে এ কার্যক্রম ।
ব্রি’র কর্মকর্তারা জানান, এফএমটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে গত দুই বছরে ৬০ শতাংশ ভর্তুকিতে পাঁচ ধরনের ২ হাজার ১৮৫টি কৃষি যন্ত্র বিক্রয় করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষি যন্ত্র বিক্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারকদের কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দেশের ১০টি জেলার ২০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।
তারা জানান, শস্য ঝাড়াই, মাড়াই, আগাছা দমন ও কর্তনের কাজে ব্যবহারযোগ্য বিতরণকৃত যন্ত্রগুলোর মধ্যে ব্রি উনোয়ার, ব্রি ওপেন ড্রাম থ্রেসার, ব্রি ক্লোজড ড্রাম থ্রেসার, ব্রি উইডার এবং ব্রি রিপার রয়েছে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলা, চাঁদপুরের সদর ও হাজীগঞ্জ উপজেলা, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি ও বেগমগঞ্জ, কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালি, চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর, জয়পুরহাটের জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি, নাটোরের সদর ও সিংড়া, রাজশাহীর মোহনপুর ও তানোর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলা।
প্রকল্প এলাকার প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রি জানায়, বিশটি উপজেলায় ব্রি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার ফলে সেখানকার ধান চাষাবাদে প্রায় ১৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সেই হিসেব অনুযায়ী সারাদেশে আমন ও বোরো মৌসুম মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমির ধান চাষে অনুরূপভাবে ১৪ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে এফএমটিডি প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
ব্রি সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের কার্যক্রমের ফলে ৩ হাজার ৬শ’ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এ কার্যক্রমের আওতায় কৃষক, মেকানিক, প্রস্তুতকারক ও সমপ্রসারণ কর্মীদের কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার, আর্থিক ও কারিগরি সুবিধা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠ প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে ব্রি উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও উপযোগিতা সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে।
সমীক্ষাধীন এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে ব্রি উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে ধান চাষে তাদের ব্যয় ও কায়িক শ্রম লাঘব হয়েছে, অপচয় কমেছে এবং আয় বেড়েছে।
গতকাল গাজীপুরে ব্রি মিলনায়তনে এফএমটিডি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মনজুর হোসেন। ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ড. ওয়ায়েস কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মুকুল চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মণ্ডল।
