‘কলকাতার শিরোপা ধরে রাখা সম্ভব’

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৯
এবার সত্যিই নিজেকে বদলে যাওয়া ভূমিকায় আবিষ্কার করবেন তিনি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পাঁচ আসরেই ছিলেন খেলোয়াড়। প্রথম চার আসরে ছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের কেন্দ্রবিন্দু। সেই সৌরভ গাঙ্গুলি এবার আর মাঠে নামবেন না। সাধারণ দর্শক হিসেবে আইপিএলের খেলা দেখবেন। ষষ্ঠ আইপিএল নিয়ে নিজের এই বদলে যাওয়া নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি— কেকেআর-এর জন্য এবারের আসরের শিরোপা ধরে রাখা কতটা কঠিন হবে? গত মৌসুমে শিরোপা জয় করাটা কেকেআর-এর জন্য অত্যন্ত বড় একটি অর্জন ছিল। এটা অনেকদিনের অপেক্ষার ফল, কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভাল ক্রিকেট খেলার কারণে তাদের এই সাফল্য প্রাপ্য ছিল। এখন তাদের সামনে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। এটা নিঃসন্দেহে কঠিন। কিন্তু একবার যেহেতু তাদের সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে তাই তারা জানে কিভাবে এই পথে এগিয়ে যেতে হবে। এর আগে চেন্নাই সুপার কিংস এটা করে দেখিয়েছে। আর তাই কলকাতার না পারার কোন কারণ নেই। প্রথম পাঁচ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি, এই কথার সাথে আপনি একমত কিনা? আমি এমনটি মনে করি না। গত তিনটি মৌসুমে তারা নকআউট পর্বে উঠেছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি শিরোপাও তারা একবার জিতেছে। ২০১০ সালে তারা ফাইনালে চেন্নাইয়ের কাছে পরাজিত হয়। তারা খুবই ভাল অলরাউন্ড দল। তবে বড় ম্যাচগুলোতে তারা সবসময় পেরে উঠছে না। এবার আপনি মুম্বাইয়ের সুযোগ কতটুকু দেখছেন? এবারের আসরে তারা বেশ আগ্রহ তৈরি করার মতো দল গড়েছে। তাদের দলে নতুন কিন্তু অত্যন্ত অভিজ্ঞ কোচ জন রাইট এসেছে। এছাড়া মেন্টর হিসেবে অনিল কুম্বলেকে দলে নিয়েছে এবং অধিনায়ক হিসেবে এবার আছেন রিকি পন্টিং। শচীন টেন্ডুলকার এবং হরভজন সিংয়ের মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাবান গে¬ন ম্যাক্সওয়েল, রোহিত শর্মা এবং আম্বাতি রাইডু রয়েছেন। সব মিলিয়ে তারা বেশ শক্তিশালী এবং শিরোপার অন্যতম শক্ত দাবিদার। কোন দলগুলোর দিকে এবার আকর্ষণ বেশি থাকবে? আমি ব্যক্তিগতভাবে কেকেআর, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর এবং অবশ্যই চেন্নাইয়ের দিকেই চেয়ে থাকব। আপনার কী মনে হয় চেন্নাইয়ের সাফল্যের মূল রহস্য কি? ২০১০ এবং ২০১১ সালে তারা চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ২০০৮ এবং ২০১২ সালের ফাইনালে হেরে যায়। একমাত্র ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার আসরে তারা ফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও তারা সেমিফাইনালে উঠেছিল। তাদের দলটি খুবই ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী স্থানীয় খেলোয়াড়সমৃদ্ধ। তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো তারা দলের মূল খেলোয়াড়দের ধরে রেখে দলের শক্তি বাড়ায় এবং কোন আসরেই লাইন আপে খুব একটা বড় পরিবর্তন করেনি। এবারের আসরের ডার্ক হর্স কোনটি? টুর্নামেন্টের ফরম্যাট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার বেড়াজালে এ ধরনের কোন দলের নাম বলা কঠিন। তবে সাফল্যের পিছনে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে টুর্নামেন্টে ভাল শুরুর পর শেষটাও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। অত্যন্ত ব্যস্তসূচির মাঝে প্রতি তিন থেকে চার দিন পরপর ম্যাচ খেলা যেকোন দলের জন্যই কষ্টকর। এই পথে কয়েকটি ম্যাচ হারাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সঠিক সময় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নকআউট পর্বের আগে নিজেদের শক্তিমত্তার যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে।