বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প অন্যতম নিয়ামক হতে পারে। তবে তিনি আরো বলেন, দেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি পর্যটন শিল্পে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দেশের স্বার্থেই আমাদের এই অস্থিরতা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ ফোক ফেস্টিভ্যাল-২০১৩’ শীর্ষক দিনব্যাপী লোকোত্সব উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত এ উত্সবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতারুজ জামান খান এবং বোর্ডের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতার আহমেদ।
মুহাম্মদ ফারুক খান আরো বলেন, যুগযুগ ধরে বাঙালির ইতিহাস, এতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতির উপর আঘাত এসেছে। আমাদের লোকজ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে অসিম সাহসিকতা। বর্তমানে যে অবস্থা চলছে তা সাময়িক আমরা জানি, কিন্তু তার মাধ্যমে দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে যে পরিমাণ পর্যটক দেশে এসেছেন, এবার তা আসেননি।
খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, লোকোত্সব আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সর্বস্তরে আমাদের ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে লালন ও চর্চা করতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে।
উত্সবে বাউল, জারি, সারি, মারফতি, লালন, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া গানের আয়োজন করা হয়। মুড়ি, চিড়া, খৈ, নাড়ু, জিলাপী, পান্তা, ফুসকা, চটপটি, নকশী কাঁথা, হাতপাখা, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, রেশমী চুড়ির পসরা সাজানোর পাশাপাশি পোশাক, দেশি রিকশা, গরুর গাড়ি, ঢেঁকি, নৌকা, বিয়ের অনুষ্ঠান, মেহেদী উত্সব, সাপের খেলা, বানর নাচ, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপের প্রদর্শনী করা হয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের ইতিবাচক প্রভাবকে বিবেচনা করে দেশের অফুরন্ত পর্যটন উপাদানসমূহ কার্যকরভাবে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড দ্বিতীয়বারের মত এই লোকোত্সবের আয়োজন করেছে।
