আজও সিলেট ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও ছাত্রদল কর্মী জুনেদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। কী কারণে তারা নিখোঁজ হলেন, কারাইবা তাদের অপহরণ করলো—কারো কাছে কোন উত্তর নেই। সরকারের কোন বিভাগই তাদের পরিবারকে খোঁজ দিতে পারেনি।
২০১২ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন দিনার ও জুনেদ। কান্না জড়িত কণ্ঠে দিনারের স্ত্রী পিংকি ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের আর খোঁজ করার জায়গা নেই, র্যাব, ডিবি সবাইকে বলেছি— কেউই কোন সন্ধান দিতে পারেনি। তারা বেঁচে আছেন কি না তাও পরিবারের কেউ জানে না। দিনারের স্ত্রী প্রিন্সিলা পারভীন পিংকি এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুল গফ্ফারের বাড়িতে থাকেন। নিরাপত্তার কারণে তাদের স্কুলে যাওয়া অনেকদিন বন্ধ ছিল। পিংকি বলেন, আমার দায়িত্ব ছিল আইনের আশ্রয় নেয়া। দায়িত্ব পালন করেছি, বাকি দায়িত্ব সরকারের।
জুনেদের মা আয়েশা বেগমের দাবি, তার ছেলে রাজনীতি করতো না। সে তার বন্ধু দিনারের সাথে ঢাকায় গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। আমরা সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েছি, তাকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিতে। তার বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ (নজির) বলেন, জুনেদের কোনো দোষ থাকলে আইনের আওতায় বিচার হোক। জুনেদের বাবা সালেহ আহমদ হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে সারাক্ষণ বাসায়ই থাকেন। তাদের প্রতিক্ষার যেনো শেষ নেই। নগরীর সাতাটিকর শাহজালাল হাউজিংয়ের এক বাসার নিচতলায় থাকেন জুনেদের মা বাবা। সেই বাসা জুড়ে এক অস্বাভাবিক নীরবতা। আয়েশা বেগম শুধু চোখের জল মোছেন শাড়ির আঁচল দিয়ে।
এদিকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে বিশ্বনাথে গত বছরের ২৩ এপ্রিল সহিংস ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান যুবদল কর্মী মনোয়ার হোসেন, জাকির হোসেন ও সেলিম আহমদ। এ ঘটনার প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঐ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি-জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। এদিকে গুলিতে নিহত মনোয়ার, জাকির ও সেলিমের পরিবার পৃথক তিনটি মামলা আদালতে দায়ের করেন। এতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারের প্রতিক্ষায় আজও রয়েছেন মা গওহর পারভীন ও বাবা ডাক্তার মঈনুদ্দিন আহমদ।
