বেড়েছে পাসের হার কমেছে জিপিএ-৫

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ২২:২৮

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ-৫ এর হার। এবার ১০ শিক্ষাবোর্ডে গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। গতবারের পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সে হিসাবে পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল  ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪। সেই হিসেবে কমেছে ৫ হাজার ৩৫ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে গতবারের চেয়ে এবার ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি পাস করেছে যা সার্বিক পাস বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।           গতকাল সোমবার সারাদেশে একযোগে ২০১৯ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ ফল ঘোষণা করেন।

রেওয়াজ অনুযায়ী আগে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেওয়া হতো। এরপর শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে থাকায় তা হলো না। তবে ফল প্রকাশ উপলক্ষে লন্ডন থেকে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনান শিক্ষামন্ত্রী।

গতকাল দুপুরে ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভালো ফল করা স্কুলগুলোতে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। বাদ্য বাজিয়ে, হাতে হাত রেখে নেচে-গেয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বেলা ১২ টায় স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে টাঙিয়ে দেওয়া হয় ফলাফল। একইসঙ্গে ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও পরীক্ষার ফল জানতে পারে শিক্ষার্থীরা। 

এবার এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪১ জন ছাত্র ও ৮ লাখ ৮২ হাজার ২২৪ জন ছাত্রী।

আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩ ও কারিগরি বোর্ডে ৭২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিদেশ কেন্দ্রে পাসের হার ৯১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এছাড়া এবার ২ হাজার ৫৮৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে এবং ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি।

ঢাকা বোর্ড: এবার ঢাকা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ লাখ ৪৮ হাজার ২২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ২ লাখ ৮ হাজার ১৮২ জন ছাত্র এবং ২ লাখ ২৮ হাজার ২৯৬ জন ছাত্রী। পাসের হার ৭৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।

রাজশাহী বোর্ড: এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ৮৮১ জন। উত্তীর্ণ হয় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮২৮ জন। এর মধ্যে ৯৭ হাজার ৯ জন ছাত্র এবং ৮৯ হাজার ৮১৯ জন ছাত্রী। পাসের হার ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

কুমিল্লা বোর্ড: কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৯৩৭ জন ছাত্র এবং ৯৪ হাজার ৫৪৩ জন ছাত্রী। পাসের হার ৮৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।

যশোর বোর্ড: যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৮২ হাজার ৩১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৮ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ৮১ হাজার ৬৩৭ জন ছাত্র এবং ৮৪ হাজার ৫১ জন ছাত্রী। পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বোর্ড: এ বোর্ডে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫১ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ৮৩৮ জন ছাত্র এবং ৬৩ হাজার ১৩ জন ছাত্রী। পাসের হার ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

বরিশাল বোর্ড: এ বোর্ডে ১ লাখ ৬ হাজার ৬২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮২ হাজার ৫৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ১৩৮ জন ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৩৯৭ জন ছাত্রী। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।

সিলেট বোর্ড: এ বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ হাজার ১৬২ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৫৯ জন ছাত্র এবং ৪৮ হাজার ৭০৩ জন ছাত্রী। পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

দিনাজপুর বোর্ড: এ বোর্ডে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৫ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ৮৪ হাজার ৬২ জন ছাত্র এবং ৮২ হাজার ৭৩ জন ছাত্রী। পাসের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ জন পরীক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭১০ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬২৮ জন ছাত্র এবং ১ লাখ ৩০ হাজার ৮২ জন ছাত্রী। পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৩ শতাংশ।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: এবছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৩ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯১ হাজার ২৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়। এদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৫১ জন ছাত্র এবং ২২ হাজার ২৪৭ জন ছাত্রী। পাসের হার ৭২ দশমিক ২৪ শতাংশ।