জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতি দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। তবে দেশের উন্নয়নসহ মৌলিক বিষয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি গতকাল শুক্রবার পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠির সমুদয়কাঠিতে দুটি পৃথক সমাবেশে আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। যা কাম্য নয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তা খতিয়ে দেখা দরকার। কিন্তু স্বরূপকাঠি, কাউখালী বা ভাণ্ডারিয়ায় এ ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এজন্য প্রশাসনসহ এলাকাবাসী কৃতিত্ব ও ধন্যবাদ পেতে পারে। এদেশ সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যে যার ধর্ম পালন করবেন। আমাদের সংবিধানে সংখ্যালঘুসহ সকলের সমান অধিকার রয়েছে। পাঞ্জাবি-টুপি-দাড়ি দেখে হয়রানি করার মানসিকতা বা প্রবণতা পরিত্যাগ করা উচিত। এদেশে সকলের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। রাজনীতিতে চারদিকে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। অথচ দেশটা অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে স্বরূপকাঠি আসার পথে দেখলাম পদ্মায় ফেরি চলাচল বন্ধ। কার হুকুমে এটা বন্ধ হয়েছে জানি না। স্বাধীন দেশে মতামত প্রকাশে স্বাধীনতা থাকতে হবে। আসনবিন্যাসের সীমানা নিয়ে গুজব ও গুঞ্জন রয়েছে। আমাদের বক্তব্য পিরোজপুরের পূর্বের চারটি আসন ফিরিয়ে দিতে হবে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ জেলায় আসন কমিয়ে তিনটি করেছে। ঢাকায় এমন আসন রয়েছে যেখানে মাত্র ১ লাখ, সোয়া লাখ ভোটার। নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে ঢাকায় যা ঘটেছে তা উদ্বেগজনক। দেশটাকে আমরা স্বাধীন করেছি উন্নয়নের জন্য। এরশাদ সরকার ও হাসিনা সরকারে আমরা ছিলাম উন্নয়নের জন্য। যখন দেশ পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলাম তখন এলাকার ন্যায্য হিস্যা অর্জনে আমরা সচেষ্ট ছিলাম। আমাদের রাজনীতি গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে নিবেদিত।
তিনি গতকাল শুক্রবার রাতে সমুদয়কাঠির সেহাঙ্গল দরগাবাড়ী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে এ বক্তব্য রাখেন। কাজী বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাজী আফছার উদ্দীন, মাওলানা সরোয়ার হোসেন প্রমুখ। এর আগে আনোয়ার হোসেন সমুদয়কাঠি রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রমে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এখানে মহেন্দ্রনাথ রায়ের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সেবাশ্রমের সম্পাদক সমীরন মিস্ত্রী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম সাঈদ।
জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল শুক্রবার পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার সমুদয়কাঠি সফর করেন এবং গতকাল বিকালে ঢাকা থেকে স্বরূপকাঠিতে এসে সেহাঙ্গল হাটখোলায় জনসংযোগ করেন। এ সময় তিনি এ হাটে সমবেত জনগণের সাথে কথা বলেন এবং কুশল বিনিময় করেন। এ কর্মসূচিকালে জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিকসহ আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে উপস্থিত আগ্রহী মানুষের মতামত জানতে চান এবং গভীর মনোযোগের সাথে তাদের অভিমত শোনেন। এ গণসংযোগকালে আনোয়ার হোসেনের সাথে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, ভাণ্ডারিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জমাদ্দার, ভিটাবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, কেন্দ্রীয় যুব সংহতির প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিল্টন, স্বরূপকাঠি উপজেলা জেপির আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম সাঈদ, সদস্য সচিব কাজী আনোয়ার সাদাত পিয়াল, যগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, মাসুম আহমেদ, স্বরূপকাঠি পৌর জেপির সভাপতি ইয়াকুব আলী, সমুদয়কাঠি ইউপি জেপি নেতা আব্দুল লতিফ বেপারী, নূরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা থেকে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে সংগঠনের যেসব নেতা সফরসঙ্গী ছিলেন তারা হলেন জেপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহীদুজ্জামান রাজু মল্লিক, শিল্প ও কর্মসংস্থান সম্পাদক তালুকদার মতিউর রহমান, কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক গোলাম কবির নান্টু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক দুলাল সরদার, জেপি নেতা কামাল জোমাদ্দার প্রমুখ। এছাড়া যুব সংহতি ও ছাত্র সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
